
সিলেট প্রতিনিধি: রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীতে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা, নগর ভবন, সড়ক বিভাজকসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ডিভাইডারে নতুন করে রং করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলছে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ, সার্কিট হাউজসহ রাষ্ট্রপতির চলাচলের সম্ভাব্য রুটের বিভিন্ন স্থানেও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায়ও চলছে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। নগর ভবন প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে অনুষ্ঠানস্থল। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সাজসজ্জা ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতি প্রথমে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারে গিয়ে জিয়ারত করবেন।
রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারতকে সামনে রেখে দুই দরগাহ এলাকায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশও সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে কাজ চলছে। মাজার এলাকায় নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের চলাচল এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারতকে সামনে রেখে শনিবার দুপুরে হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ শরিফ পরিদর্শন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
পরিদর্শনকালে তিনি দরগাহ এলাকার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন এবং অন্যান্য প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারত যেন নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সিসিক প্রশাসক।
দরগাহ এলাকায় রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে সৃষ্টি না হয় এবং সাধারণ মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের চলাচলে যাতে সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরের সার্বিক প্রস্তুতি ও আয়োজন সম্পর্কে অবহিত করতে এর আগে গত বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
সাক্ষাৎকালে তিনি রাষ্ট্রপতির সফরসূচি, নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎ শেষে সিসিক প্রশাসক জানান, রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে সিলেটবাসীর মধ্যে যে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, নাগরিক সংবর্ধনায় তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনা। সফরসূচি অনুযায়ী, মাজার জিয়ারত শেষে বিকেলে নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
নাগরিক সংবর্ধনাকে ঘিরে ইতোমধ্যে নগর ভবন এলাকায় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল সাজানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এই আয়োজনে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেটিই তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে সিলেট নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন রং করার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
কিন ব্রিজ, সার্কিট হাউজসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর সৌন্দর্যবর্ধনেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকাতেও পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজ চলছে।
রাষ্ট্রপতির সফরকে সামনে রেখে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তোলার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সফরের আগে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করতে দিন-রাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মীরা।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রাষ্ট্রপতির সফরস্থল, চলাচলের সম্ভাব্য রুট এবং নাগরিক সংবর্ধনার স্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছেন। রাষ্ট্রপতির সফরের সময় সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে পৌঁছে মাজার জিয়ারত এবং নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার পর ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সিলেট নগরীতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। রাষ্ট্রপতির প্রথম সিলেট সফরকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে নতুন রূপে সাজছে সিলেট নগরী। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সংশ্লিষ্টরা। এখন অপেক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বরের—যেদিন রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে সিলেট নগরী।