
ময়মনসিংহে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের চারজনসহ সাতজনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে জামালপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিহতদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক ও স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
শুক্রবারের দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে মরদেহগুলো জামালপুরের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে বিভিন্ন এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন ছিলেন। শনিবার সকালে জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামে মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও তার মা রাশিদা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
একই ইউনিয়নের গোড়ারকান্দা গ্রামে মোফাজ্জল হোসেন লেবুর মেয়ে মর্জিনা বেগম ও তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। একই পরিবারের চার সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়ে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।
দুর্ঘটনায় নিহত সিএনজিচালক সুজন আলীর মরদেহ শুক্রবার রাতে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে রাতেই গোবিন্দবাড়ি গ্রামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। একই দুর্ঘটনায় চালকসহ সাতজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনায় জামালপুর সদর উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামের আক্রাম আলী ও তার স্ত্রী মমতা বেগমও নিহত হন।
শনিবার তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু তার মা, মেয়ে ও নাতিকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হন। জামালপুর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ময়মনসিংহ যাওয়ার পর সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুর যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
পথে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজনসহ সিএনজিচালক ও আরও দুইজন নিহত হন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়।
দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক বাসটি ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার রাতেই মরদেহগুলো জামালপুরের বিভিন্ন গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর শনিবার সকালে নিজ নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যসহ সাতজনের প্রাণহানির ঘটনায় জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
নিহতদের জানাজায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ছাড়াও স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে মরদেহগুলো দাফন করা হয়।
এদিকে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সড়কে যানবাহন চলাচলে আরও সতর্কতা, চালকদের দায়িত্বশীলতা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।