
সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তারের পর প্রায় সাড়ে ১৩ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন এনাম আহমেদ। দীর্ঘ সময় বন্দী থাকার কারণে বর্তমানে তাঁর মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।
মৌলভীবাজারের বড়লেখার বাসিন্দা এনাম ঢাকায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। এরপর আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি।
তবে দীর্ঘ তদন্তের পরও তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পিবিআইয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনামের মা ফাতেমা বেগম জানান, ছেলের গ্রেপ্তারের পর তাঁদের পরিবার নানা সংকটের মধ্যে পড়ে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ছেলের মামলা পরিচালনা ও নিয়মিত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাও তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।
এর আগে এনামের বাবা কালা মিয়াকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ পর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে ভৈরবের কাছে পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার পর তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটে।
দীর্ঘ অসুস্থতার পর চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মারা যান কালা মিয়া।
ফাতেমার অভিযোগ, স্বামীর চিকিৎসা এবং সংসারের ব্যয় সামলাতে গিয়ে পরিবারটি অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে এনামের দীর্ঘ আইনি লড়াইও যথাযথভাবে চালানো সম্ভব হয়নি।
আদালতের নির্দেশে গত ২২ এপ্রিল কারাগারে এনামকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অনেক প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। তাঁর বক্তব্যে অসংলগ্নতাও লক্ষ্য করা যায়।
তদন্ত কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণে তাঁর মানসিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ বন্দিত্বের কারণে তাঁর মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে অন্য বন্দীদের থেকে আলাদা জায়গায় রাখা হচ্ছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এনামের মা ও ভাইয়ের দাবি, হত্যাকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ না থাকলে দ্রুত তাঁকে মুক্তি দেওয়া হোক এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।
একই দাবি জানিয়েছেন নিহত সাংবাদিক মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলমও। তাঁর বক্তব্য, সাগর-রুনি হত্যার প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে যেন দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে না হয়।
প্রায় সাড়ে ১৩ বছর ধরে একজন সন্দেহভাজন হিসেবে কারাগারে থাকা এনামের বিরুদ্ধে প্রমাণ না পাওয়ার তথ্য এখন তাঁর মুক্তি ও চিকিৎসার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।