
নিজস্ব প্রতিবেদকসারাদেশে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে ৯০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন।
হাম পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হওয়ায় ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিভাগটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৪০ জনে দাঁড়ায়।
সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৮ আগস্ট প্রকাশিত বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই শিশুর মৃত্যুর পর সিলেটে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৮ জনে। পরে ২০ আগস্ট আরও এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় এবং মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৪০ জনে।
সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটির বয়স ছিল আট মাস। সে কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে চলতি বছরে ৯৮৮ জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩২০, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জে। ২০ আগস্ট পর্যন্ত সেখানে সন্দেহজনক হাম নিয়ে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেট জেলায় ৫০, হবিগঞ্জে ১৪ এবং মৌলভীবাজারে ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর বাইরে নিশ্চিত হামেও চার জেলায় মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৪৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। একই সময়ে এক দিনে নতুন করে ১৩১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী রোগীরাও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯ জনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে ওই সময় পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯০৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার তথ্য এসেছে। ফলে সারাদেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত নজরদারি ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের পাশাপাশি হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, শরীরে র্যাশ, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।