সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) আওতা বাড়ানোর প্রস্তাবে গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেটের দুই সংসদ সদস্য। তাঁদের মতে, দূরের উপজেলাগুলোকে সিউকের আওতায় নেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাগরিক সেবা পেতে সিলেট নগরে আসতে হতে পারে। এতে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম ও অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে এ আহ্বান জানান তাঁরা। অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক গুলজার আহমদ।
সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতা বাড়ানোর একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ওই প্রস্তাবে গোলাপগঞ্জ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, দায়িত্বশীলদের সামনেই তিনি আহ্বান জানাচ্ছেন, সিউকের আওতায় গোলাপগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব থেকে উপজেলাটিকে বাদ দিতে হবে। সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর এলাকার মানুষের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দূরের কোনো উপজেলাকে যুক্ত করে সেখানকার নাগরিক সেবা ব্যাহত করার প্রয়োজন নেই।
এ কারণে গোলাপগঞ্জকে সিউকের আওতায় না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একই অনুষ্ঠানে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজের পরিধি বাড়ানোর জন্য একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ওই পরিকল্পনায় তাঁর সংসদীয় আসনের বিশ্বনাথ উপজেলার নামও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমার আহ্বান থাকবে, এই সংস্থার সঙ্গে আমার সংসদীয় আসন বিশ্বনাথ উপজেলাকে যুক্ত করবেন না।’ বিশ্বনাথের নাগরিকদের যেন নাগরিক সেবা নিতে সিলেট শহরে আসতে না হয়, সেটিই তিনি চান। স্থানীয়ভাবে সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকলে মানুষের সময় ও অর্থ—দুই-ই সাশ্রয় হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম ও অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালেক, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মোহাম্মদ বদরুজ্জামান সেলিম এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।