
সিলেট নগরের মজুমদারপাড়ায় নিজ ঘর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের বাবা অভিযোগ করেছেন, তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় পুত্রবধূ জড়িত থাকতে পারেন। তবে নিহতের স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তার স্বামী জুয়া খেলতেন এবং মাদক সেবন করতেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মজুমদারপাড়ার একটি বাসায় নিজ কক্ষ থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন সেখানে ভিড় করেন। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।
নিহতের বাবার অভিযোগ, তার ছেলের সঙ্গে পুত্রবধূর পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি পুত্রবধূর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, বিষয়টি সাধারণ মৃত্যু নয়; ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে তার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন কীভাবে ঘটনা ঘটেছে। তবে পারিবারিক বিরোধ ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তার পুত্রবধূকে জিজ্ঞাসাবাদসহ সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে নিহতের স্ত্রী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার স্বামী নিয়মিত জুয়া খেলতেন এবং মাদক সেবন করতেন। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি ও মনোমালিন্য ছিল বলেও জানান তিনি।
নিহতের স্ত্রী আরও দাবি করেন, তার স্বামীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছিল। তবে তার স্বামীর মৃত্যুর সঙ্গে নিজের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও মৃত্যুর কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে নিহতের বাবা ও স্ত্রীর বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় পুলিশ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের বক্তব্য সংগ্রহ করছে। পারিবারিক বিরোধ, নিহতের ব্যক্তিগত জীবন এবং মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিহতের বাবার অভিযোগ যেমন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, তেমনি তার স্ত্রীর বক্তব্যও যাচাই করা হবে। ময়নাতদন্তের ফলাফল, ঘটনাস্থলের আলামত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।