শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা পেয়েছেন সিলেটের শিল্পী তারেক আমিন (রুহুল আমিন তারেক)।
চলতি বছরের জুনে তিনি এ ভিসা লাভ করেন। শিল্প ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বীকৃত তারকা কিংবা উদীয়মান প্রতিভাবানদের যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের পেশাগত কাজ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
শিল্পী তারেক আমিনের বাড়ি সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জে। বাংলাদেশের সমকালীন প্রিন্টমেকিং শিল্পে তিনি একটি স্বতন্ত্র শিল্পসত্তা হিসেবে পরিচিত। রেখা, মানুষ, স্মৃতি, অস্তিত্ব ও অনুভূতির গভীরে প্রবেশ করে তাঁর শিল্পচর্চা গড়ে উঠেছে নিজস্ব এক শিল্পভাষা।
দীর্ঘ শিল্পজীবনে তারেক আমিন অর্জন করেছেন একাধিক জাতীয় পুরস্কার ও সম্মাননা। পরপর দুই বছর ২১তম ও ২২তম জাতীয় পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রদর্শনীতেও অংশ নিয়েছেন।
২০২৫ সালে লন্ডন ও বার্মিংহামে তাঁর একাধিক প্রদর্শনী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন আর্ট উৎসবে অংশগ্রহণ তাঁর শিল্পচর্চাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও পরিচিত করে তোলে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, জাপান, ভুটান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রদর্শিত হয়েছে তাঁর শিল্পকর্ম।
উডকাট (Woodcut) ও পেন্সিল স্কেচের (Pencil Sketch) মতো মাধ্যমকে অবলম্বন করে তারেক আমিন রেখাকে পরিণত করেছেন অনুভূতি প্রকাশের এক শক্তিশালী শিল্পভাষায়। তাঁর কাজের মধ্যে মানুষের অস্তিত্ব, স্মৃতি ও অন্তর্গত অনুভূতির নানা স্তর ফুটে ওঠে।
গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কালনী আর্ট স্টুডিওর উদ্যোগে একটি পুনর্মিলনী ও শিল্পোদ্যোগের আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজনে শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও শিল্পানুরাগীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।