
সিলেট বিভাগের তিন উপজেলা থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড পদে দায়িত্ব পালন করা তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। তাদের নতুন দায়িত্বে পদায়নের আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন সিলেট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রশীদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুৎফুন নাহার শারমিন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ থেকে প্রত্যাহার করে তাদের নিজ নিজ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। সেখানে তাদের সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য রাখা হবে।
প্রশাসন ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নতুন দায়িত্বে পদায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু সিলেট বিভাগের তিন কর্মকর্তা নন, দেশের বিভিন্ন উপজেলার মোট ৬৮ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে একই প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, ঢাকা ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন উপজেলার এসিল্যান্ড রয়েছেন।
তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রত্যাহারের পর তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহার করা কর্মকর্তাদের নাম, পরিচিতি নম্বর, বর্তমান কর্মস্থল এবং কোন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে তাদের ন্যস্ত করা হয়েছে—এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
আদেশটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সরকারি কর্মচারীদের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অনলাইন ব্যবস্থায় হালনাগাদ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের নিয়মিত পদায়ন ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের তথ্য থেকে জানা গেছে।