জন্ম নিবন্ধন নম্বর জালিয়াতি ও গরমিলের কারণে পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার ওসমানপুর ব্রাহ্মণশাসন ইউনিয়নের আলিম পড়ুয়া মাদরাসাছাত্র মো. আবু সাঈদ।
নিয়ম অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া শেষ করে আঙুলের ছাপ ও ছবি তুলতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার নিজস্ব জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে ‘মো. মাকনুন’ নামের এক প্রবাসী দুবাইয়ে অবস্থান করে ইতিমধ্যে দুইবার পাসপোর্ট তুলেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, আবু সাঈদ তার বৈধ জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে আবেদন করেন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেট পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে তা জমা দেন। কিন্তু ছবি ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার সময় তাকে জানানো হয় যে, ওই জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে মো. মাকনুন নামের এক ব্যক্তি ২০১৮ সালে প্রথমবার এবং মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৩ সালে দ্বিতীয় দফায় পাসপোর্ট নিয়েছেন।অথচ আবু সাঈদের জন্ম নিবন্ধনটি ২০০৯ সালের ৪ মার্চ রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল এবং এতে তার পিতা মো. শফিকুর রহমান ও মাতার নাম সম্পূর্ণ সঠিক রয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মো. মাকনুনের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও বাবা-মায়ের নাম আবু সাঈদ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হলেও পাসপোর্টের ডেটাবেজে কীভাবে আবু সাঈদের নম্বরটি যুক্ত হলো, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। দুই প্রার্থীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন কপি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আবু সাঈদের জন্ম নিবন্ধন নম্বরের শেষ পাঁচ সংখ্যা ২৬৩৮৫ এবং এটি ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৪ মার্চ ২০০৯ তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত।
অপরদিকে, একই ইউনিয়ন থেকে ইস্যু করা মো. মাকনুনের জন্ম নিবন্ধনের শেষ পাঁচ সংখ্যা ১লাইনি বা ১১৪৯০ এবং তার বাবা-মায়ের নাম যথাক্রমে মো. শুয়াইবুর রহমান ও মোছাম্মৎ আবিদা খাতুন। নথিপত্রের এই স্পষ্ট ব্যবধান সত্ত্বেও মাকনুন আবু সাঈদের নম্বর ব্যবহার করে সিলেট বিভাগীয় অফিস থেকে ১৯৩ ও ৪২৭ শেষ তিন সংখ্যার দুটি পাসপোর্ট নিয়েছেন।
এমন অপ্রত্যাশিত বিড়ম্বনায় পড়ে আবু সাঈদের বাবা মো. শফিকুর রহমান গত এক সপ্তাহ ধরে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাননি। কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে গেলে তাকে জানানো হয় এটি পাসপোর্ট অফিসের কোনো ভুল নয় এবং তাকে জন্ম নিবন্ধন পরিবর্তন বা সংশোধন করার পাশাপাশি থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশ্ন তুলেছে, সঠিক ও মূল নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তারা কেন বিনা কারণে নিজেদের জন্ম নিবন্ধন সংশোধন বা জটিলতায় জড়াবেন।
এ বিষয়ে উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র দেব স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো ভুল করা হয়নি এবং দুইজনের জন্ম নিবন্ধনের নম্বরও সম্পূর্ণ আলাদা।
তার মতে, এই গরমিল কীভাবে হলো তার সঠিক জবাব কেবল পাসপোর্ট অফিসই দিতে পারবে। এদিকে অভিযুক্ত মো. মাকনুন বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করায় এবং তার পাসপোর্টের প্রদত্ত নম্বরে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি বিধায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদা জানিয়েছেন যে, প্রথমবার যখন পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছিল তখন পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা ছিল এবং তখনকার রিপোর্ট যাচাই করে এ বিষয়ে পরবর্তী কথা বলতে হবে।