মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে এক নারীকে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া এবং পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ৩৭ বছর বয়সী ওই নারী সাইবার সুরক্ষা আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার পর সেলিম উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার সেলিম বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন তাজপুর গ্রামের আঙ্গুর বেগম (৪২) ও লিজা বেগম (২২)।
পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে হুমকির অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৩ মার্চ রাতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ওই নারীকে ফোন করেন সেলিম। তিনি নিজেকে মৌলভীবাজার পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন।
এ সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্যের ছবি দেখিয়ে তাঁরা তাঁর অধীনে কাজ করেন বলেও দাবি করা হয়।
পরে ওই নারীকে তাঁর কিছু ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি অন্যদের কাছে রয়েছে বলে জানানো হয়। টাকা না দিলে সেসব ছবি তাঁর স্বামীর কাছে পাঠানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
কয়েক দফায় নেওয়া হয় ৪৭ হাজার টাকা
এজাহারে বলা হয়েছে, সামাজিক সম্মান ও পারিবারিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ওই নারী বিভিন্ন সময়ে সেলিমের দেওয়া বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠান। চার দফায় তিনি মোট ৪৭ হাজার টাকা দেন।
পরে বিষয়টি তাঁর স্বামী জানতে পারেন। এরপর টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আঙ্গুর বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ভুক্তভোগী। অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে সেলিমের বিকাশ নম্বর থেকে ওই নারীর মায়ের নম্বরে দুই দফায় মোট ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
তবে টাকা ফেরত দেওয়ার পরও হুমকি ও হয়রানি বন্ধ হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বামীর কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে সেলিম ভুক্তভোগীর স্বামীকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। তাঁর কাছে স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি রয়েছে দাবি করে টাকা না দিলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর গত ১৩ মার্চ ভুক্তভোগীর স্বামী সেলিমের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু এরপরও আরও টাকা দাবি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে ছড়ানোর অভিযোগ
একপর্যায়ে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিন আসামি পরস্পরের সহযোগিতায় তাঁর ব্যক্তিগত ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিকৃত ও নগ্ন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গত ৯ জুলাই লিজা বেগমের একটি ইমু অ্যাকাউন্ট থেকে ভুক্তভোগীর স্বামীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ওই বিকৃত ছবি পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, পুরো ঘটনায় তাঁর সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে তাঁকে ভয় দেখানো এবং পরে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আসামিরা তাঁকে হয়রানি করেছেন।
একজন গ্রেপ্তার, অন্যদের খোঁজে অভিযান
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, ভুক্তভোগী নারী সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। মামলার সঙ্গে তিনি বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণও দিয়েছেন।
মামলার ভিত্তিতে সেলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।