প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ৭:২৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ৯:৪৩ পি.এম
সিলেটে বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনেই উপচে পড়া ভিড়, দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট

নগরীর ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ মাঠে শুরু হওয়া মাসব্যাপী ‘সৃজনশীল পণ্য ও বাণিজ্যমেলা’-এর আজ দ্বিতীয় দিন। গতকাল ১৫ অক্টোবর মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। মেলার দ্বিতীয় দিনেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। এতে একদিকে যেমন প্রাণ ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মাঝে, অন্যদিকে মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিকেল গড়ালেই মেলামুখী মানুষের ঢল নামছে শাহী ঈদগাহ ও টিভি গেট এলাকায়। মেলায় দেশীয় পোশাক, আকর্ষণীয় হস্তশিল্প, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি নানা সৃজনশীল পণ্যের স্টলগুলো ঘুরে দেখছেন সব বয়সী মানুষ। পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য মেলার বিভিন্ন রাইড ও আয়োজনগুলো মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
তবে বিপুল এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সড়কে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা ও মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত চাপে মেলা সংলগ্ন সড়কগুলোতে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। শাহী ঈদগাহর চারপাশের মূল সড়কে যেখানে-সেখানে যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা এবং যত্রতত্র পার্কিং করায় এই ভোগান্তি আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
মেলায় ঘুরতে আসা নগরীর বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম বলেন, "১৫ তারিখ উদ্বোধনের পর আজ দ্বিতীয় দিন হওয়ায় পরিবার নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু মেলার অনেক আগেই রাস্তায় জ্যামে আটকে পড়তে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত রিকশা থেকে নেমে হেঁটে মেলায় ঢুকতে হয়েছে। শিশুদের নিয়ে এই ভিড়ে হাঁটাও বেশ কষ্টকর।"
আরেক দর্শনার্থী ফারজানা আক্তার বলেন, "দীর্ঘ তিন বছর পর সিলেটে বাণিজ্য মেলা হচ্ছে—এটি অবশ্যই আনন্দের খবর। কিন্তু গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা না থাকায় এবং অতিরিক্ত সিএনজি-রিকশার চাপে আশপাশের রাস্তায় বড়দের পাশাপাশি বাচ্চারাও খুব ভোগান্তিতে পড়ছে।"
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারী আব্দুল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের এই আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে মেলায় যাওয়ার অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি কাজে অ্যাম্বুলেন্স বা কোনো যানবাহন চলাচল করতেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।"
এ বিষয়ে মেলা আয়োজক কমিটি এবং ট্রাফিক বিভাগের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিকরা। তারা মনে করেন, ট্রাফিক পুলিশ জোরদার করা, মেলার বাইরে নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং অবৈধভাবে সড়কে গাড়ি দাঁড়ানো বন্ধ করা গেলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
Copyright © 2026 এবিসি টিভি ২৪. All rights reserved.