সিলেটে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাং দেখতে চান না মন্ত্রী
সিলেটে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের কোনো তৎপরতা দেখতে চান না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে নবাগত পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন আছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন দেখতে চান। এ ক্ষেত্রে মাদকের বিস্তার, অনলাইন জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। সিলেটে কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও দেখতে চাই না।’
মন্ত্রী জানান, এসব বিষয়ে এসএমপিকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নির্মূলের আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিভিন্ন দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ কার্যকর রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে সর্বনিম্ন হারের মধ্যে একটি।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য, ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা কয়েকজন ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছেন। দুই দেশের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার বিষয়েও তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাঁচামালের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া অবকাঠামো খাতে যৌথ বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাজ করার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহায়ক করতে তাদের দেওয়া কিছু প্রস্তাব ও পরামর্শ সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি—এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির তুলনায় বেশি। তবে রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। রপ্তানি বাড়লে আমদানিও বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
ভিয়েতনামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশটির আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। দেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণের আরও সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চাকরিজীবীদের জীবনমান ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করা উচিত। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়েই অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ ও তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।