
সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও অল্প সময়ের ব্যবধানে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে, আবার কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এতে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি দোকানপাট, ছোট ব্যবসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন পেশাজীবীর কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। দিনের প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘুম ও বিশ্রামেও ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হাতপাখা, চার্জার ফ্যান কিংবা ব্যাটারিচালিত বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পানির পাম্প চালানো, রান্না, মোবাইল-ল্যাপটপ চার্জ দেওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বিদ্যুৎনির্ভর দোকান ও প্রতিষ্ঠানে কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে দর্জির দোকান, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, প্রিন্টিং ও ফটোকপি ব্যবসা, কম্পিউটারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং ছোট কারখানাগুলোতে উৎপাদন ও সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করছেন। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় যোগ হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সিলেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অর্ডার সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সার, অনলাইন উদ্যোক্তা, সফটওয়্যারকর্মী ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পেশার মানুষও সমস্যায় পড়ছেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে রাউটার বন্ধ হয়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। ফলে অনলাইন মিটিং, ক্লায়েন্টের কাজ কিংবা নির্ধারিত সময়ে ফাইল পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সিলেটে সাম্প্রতিক লোডশেডিং বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কুমারগাঁওয়ের ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র। কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন থাকতে পারে বলেও ধারণা দেওয়া হয়েছে।এর বাইরে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হলে গ্রিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হয়। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সিলেট অঞ্চলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানের কথাও উঠে এসেছে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি জানা না থাকায় দৈনন্দিন কাজ পরিকল্পনা করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে গরমের সময় দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
ব্যবসায়ীদেরও দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে এবং উৎপাদন ও সেবামূলক কার্যক্রমে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকবে।
নগরবাসীর দাবি, সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সমন্বয়ের পাশাপাশি সিলেটের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রয়োজন। বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত সমাধান, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় বিতরণব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও কমে আসবে। জ্বালানি সংকট ও জাতীয় পর্যায়ের উৎপাদন ঘাটতিকে বর্তমান সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।
তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সিলেট নগরবাসীকে আরও কিছুটা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।