সিলেট নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ৯ হকারকে আটক করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। একই সঙ্গে অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হকারকে সড়ক ও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার নগরের কোতোয়ালী মডেল থানা, এয়ারপোর্ট থানা ও দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জনসাধারণ ও যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।
নগরের ব্যস্ত সড়ক ও ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ দখল করে হকাররা ব্যবসা করায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো এবং সড়কের ওপর পণ্য রাখার কারণে অনেক সময় পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়।
এতে একদিকে যেমন পথচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যস্ত সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মঙ্গলবার নগরের কোতোয়ালী মডেল থানা, এয়ারপোর্ট থানা এবং দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় জনসাধারণ ও যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করার অভিযোগে ৯ জন হকারকে আটক করা হয়।
এ ছাড়া অভিযান চলাকালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হকারকে সড়ক ও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এ অভিযানের তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করায় ৯ জন হকারকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হকারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নগরের বিভিন্ন সড়কে হকারদের অবৈধভাবে বসানো দোকান ও পণ্যসামগ্রীর কারণে যান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদেরও স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ কমে যায়।
পুলিশের এ ধরনের অভিযানকে নগরের সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হলে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাতগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তবে হকারদের উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের জীবিকা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে। কারণ নগরের অনেক হকার দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতকেন্দ্রিক ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে আটক ৯ হকারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে যাতে কেউ পুনরায় ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি থাকবে।
জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যানজট কমানোর লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নগরের যানজট নিরসনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিতভাবে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করবে। এতে পথচারীদের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যস্ত সড়কগুলোতেও যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ফিরবে।