
সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের জন্য স্বস্তির খবর। জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চালু হতে যাচ্ছে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার। ইতোমধ্যে সেন্টারের জন্য ১০টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য সিলেটসহ জেলার বাইরে যেতে হয়। বিশেষ করে যেসব রোগীর সপ্তাহে একাধিকবার ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য দূরের হাসপাতালে যাতায়াত করা বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনের অতিরিক্ত ব্যয়ও বহন করতে হয়। ফলে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে গিয়ে অনেক পরিবারকে বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নতুন ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু হলে জেলার রোগীদের একটি বড় অংশ নিজ জেলাতেই এই চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে জেলার বাইরে যাতায়াতের প্রয়োজন কমার পাশাপাশি সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি কমতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-৪ অধিশাখা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ৪৪টি জেনারেল ও জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।
এসব সেন্টারের জন্য রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে মোট ৩৯৬টি পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ছয়টি করে সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং তিনটি করে মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ডায়ালাইসিস) পদ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেন্টারের জন্যও নয়টি পদ সৃজন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে সেন্টারটি চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের অনেক কিডনি রোগী নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য সিলেট শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে যান। ডায়ালাইসিস একবারের চিকিৎসা নয়; রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হয়। ফলে প্রতিবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়া রোগীদের জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে।
হাওরাঞ্চল ও জেলার প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট। এসব এলাকার রোগীদের প্রথমে নিজ এলাকা থেকে উপজেলা বা জেলা শহরে আসতে হয়। এরপর ডায়ালাইসিসের জন্য সিলেট কিংবা অন্য কোনো জেলায় যেতে হলে যাতায়াতে আরও সময় ও অর্থ ব্যয় হয়।
অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ রোগীর সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্যকেও যেতে হয়। এতে চিকিৎসার ব্যয়ের সঙ্গে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ যুক্ত হয়ে পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালু হলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা রোগীরা সুনামগঞ্জ শহরেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারবেন। এতে দীর্ঘ পথ যাতায়াতের প্রয়োজন কমবে এবং চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়াও সহজ হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুনামগঞ্জে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু হওয়া জেলার স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। নিয়মিত ডায়ালাইসিস প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে এই সেবা চালু হলে তাদের চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ আরও সহজ হবে।
বিশেষ করে সীমিত আয়ের রোগীদের ক্ষেত্রে জেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার অতিরিক্ত খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে রোগীদের দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করতে না হওয়ায় শারীরিক ভোগান্তিও কমতে পারে।
তবে সেন্টারটি নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডায়ালাইসিস মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ জানিয়েছেন, ডায়ালাইসিস সেন্টারের ১০টি বেড ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে দ্রুত সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে।
সেন্টারটি চালু হলে সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রোগীর চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ডায়ালাইসিস সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।