মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, হত্যার পরও বাড়িতে অবস্থান করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যান তিনি। তবে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম সুমন সরকার (৪০)। তিনি গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় রংমিস্ত্রি। নিহত নারী রিনা বেগমের (৩২) সঙ্গে প্রায় ১৭ বছর আগে তার বিয়ে হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খাবার চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এ সময় সুমন তার স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে রাতের দিকে রিনা তার মেয়েকে নিয়ে একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সুমনও অন্য একটি কক্ষে ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রাতের কোনো একসময় তিনি স্ত্রীর কক্ষে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় রিনাকে শ্বাসরোধ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পর সুমন বাড়িতেই ছিলেন। ভোরে স্থানীয় মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করেন। এরপর পরিস্থিতি বুঝে কুমিল্লার দিকে চলে যান।
পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার পর নিজের অবস্থান গোপন রাখতে সুমন কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল গজারিয়া থানা পুলিশ।
পরে পুলিশের একটি দল তার অবস্থান শনাক্ত করে। ঢাকার দিকে যাওয়ার সময় টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন সুমন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল বলেও প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগও ছিল বলে জানায় পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত রিনার ভাই সাফায়েত হোসেন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সুমন সরকারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার সুমনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।