স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর বিচারিক আদালতে মাকে সঙ্গে নিয়ে হাজিরা দিয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভী। হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী।’
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজিরা দেন যাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা। তারা দুজনই ইকরার আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার আসামি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা ডিবি পুলিশ নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। পরে আদালত আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, এদিন আসামি নাসরিন সুলতানার জামিন স্থায়ী করার জন্য আবেদন করা হয়। তবে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জামিন স্থায়ী না করে ধার্য তারিখ পর্যন্ত তার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন।
হাজিরা শেষে মাকে সঙ্গে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা যাহের আলভীর কাছে মামলার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তিনি সংক্ষেপে বলেন, ‘আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী।’
এরপর মামলার বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। পরে মাকে সঙ্গে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন এই অভিনেতা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে ইকরাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
পরে বাসার মালিক ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যায়। সেখানে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। একই সঙ্গে যে বাসায় ইকরার মৃত্যু হয়, সেখান থেকেও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ।
ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় ওই রাতেই তার বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
মামলায় যাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানাকে আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।
মামলার পর গত ৪ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা।
এরপর ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন যাহের আলভী। তবে সেদিন আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান যাহের আলভী। জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার মাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিচারিক আদালতে হাজিরা দেন।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো দাখিল না হওয়ায় আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।