
ফেনীতে একটি আবাসিক হোটেলের বাথরুমে চুলা ও গ্যাস সিলিন্ডার বসিয়ে চিনি জ্বাল দিয়ে ভেজাল মধু তৈরির অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেনী পৌর এলাকার বড় মসজিদ রোডের একটি আবাসিক হোটেলের ষষ্ঠ তলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিকে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বাথরুমের ভেতরে চুলায় চিনি জ্বাল দিয়ে মধুর মতো একটি পণ্য তৈরির কার্যক্রম দেখতে পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামতসহ চারজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ মহসিন, মেহেদী হাসান, মো. রাসেল ও জসিম উদ্দিন। তারা কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা ভেজাল মধু তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরির সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশ।
আটকদের মধ্যে মহসিনকে চক্রটির নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারে খাঁটি মধুর তুলনামূলক বেশি দামকে কাজে লাগিয়ে কম দামে মধু বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছে ভেজাল পণ্য সরবরাহ করা হতো।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দুই কেজি আসল মধুর সঙ্গে প্রায় ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে কথিত মধু তৈরি করা হতো। পরে তা বাজারে মধু হিসেবে বিক্রি করা হতো। প্রতিদিন প্রায় ১০ কেজি পর্যন্ত এ ধরনের পণ্য তৈরির দাবি করেছে আটক ব্যক্তিদের একজন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির আরও সদস্য থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়েছে। তাদের শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই আবাসিক হোটেলে অবস্থান করলেও তাদের এমন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।