
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় জীবিত এবং তাঁদের ১০ মাস বয়সী শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত আমিনুল ইসলাম রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ লাইনে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের হোটেল রিলাক্স জোনের ১০৪ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে আমিনুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার হোটেলটির ১০৪ নম্বর কক্ষে ওঠেন। হোটেলে ওঠার সময় তাঁরা জানান, সোমবার সকাল ১১টার দিকে চেকআউট করে কক্সবাজারে ঘুরতে যাবেন।
তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তাঁরা কক্ষ থেকে বের না হওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষ দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করেন। দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পাওয়ার পর একপর্যায়ে তাহমিনা আক্তার রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুলে দিয়ে কক্ষের মেঝেতে পড়ে যান।
এ সময় হোটেলকর্মীরা কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
একই কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তাঁদের ১০ মাস বয়সী শিশুকন্যাকেও কক্ষ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মিরসরাই-জোরারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাদিম হায়দার চৌধুরী জানান, ঘটনাটি পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার সুস্থ হওয়ার পর তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।