
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিকল্প যোগাযোগপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্ত ও উন্নয়নে বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এই প্রকল্পের আওতায় সড়কটির প্রস্থ ১৮ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৩৪ ফুট করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কটির উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে এই পথে যানবাহন চলাচল আরও সহজ হবে। পাশাপাশি ঢাকা ও সিলেটের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট হিসেবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রকল্পের আওতায় সরাইল থেকে নাসিরনগর হয়ে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বলভদ্র সেতু পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন করা হবে। বর্তমানে সড়কটির বিভিন্ন অংশ তুলনামূলক সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে একাধিক যানবাহন পাশাপাশি চলাচল করতে না পারায় কোথাও কোথাও ধীরগতি ও যানজটের সৃষ্টি হয়।
সড়কটি প্রশস্ত হলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সুবিধা বাড়বে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নাসিরনগর কলেজ মোড় এলাকায় সড়কটির উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সড়কটি আধুনিক ও প্রশস্ত করার পাশাপাশি এর কাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে সড়কটির ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং যানবাহন চলাচলে নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, সরাইল-নাসিরনগর-বলভদ্র সড়কটি উন্নত হলে ঢাকা থেকে সিলেট যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিকল্প রুট হিসেবে এর গুরুত্ব আরও বাড়বে। বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় এই পথ ব্যবহার করলে সড়ক যোগাযোগের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমতে পারে।
ফলে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের সময় ও জ্বালানি খরচ কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হবে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ থাকলে এই আঞ্চলিক সড়কটি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করা সহজ হবে।
প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক ও কুমিল্লার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার জানিয়েছেন, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান সড়কটি প্রশস্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। সড়কের গুণগত মান নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটির কাজ ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে সরাইল, নাসিরনগর ও লাখাইসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
এ ছাড়া সড়কটি উন্নত হলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেটের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে শেষ হলে দীর্ঘদিনের সরু সড়কের সমস্যা দূর হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই বিকল্প সড়কটি ভবিষ্যতে আরও বেশি কার্যকর হয়ে উঠবে।