
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার অবকাঠামো থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। এতে উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ চিকিৎসা নিতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালটি সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস ধরে এক্স-রে ফিল্মের সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে পরীক্ষা। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্স-রে করাতে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা অন্যত্র যেতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
শুধু এক্স-রে নয়, হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগেও রয়েছে জনবল ও প্রয়োজনীয় কেমিকেলের সংকট। ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী প্যাথলজি বিভাগে মাত্র দুজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগীর বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালটিতে নতুন জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় সেটিও নিয়মিত ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে ভর্তি রোগীদের গরমের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
হাসপাতালের নতুন ভবনের আশপাশেও রয়েছে পরিবেশগত সমস্যা। পয়োনিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় টয়লেটের নোংরা পানি ভবনের প্রবেশপথের পাশে জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
এ ছাড়া হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার জন্যও পর্যাপ্ত চালক নেই। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়ির চালক একই সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স চালানোর দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ডায়াবেটিসের মতো সাধারণ পরীক্ষাও হাসপাতালে সবসময় করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্স-রে বন্ধ থাকায় রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
হাসপাতালটির ওপর বাগাতিপাড়ার পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষও নির্ভরশীল। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। তবে প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুবিধার ঘাটতিতে কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালের সমস্যাগুলো নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, হাসপাতালের সমস্যাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, অর্থবছরের শুরুতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার কারণে এক্স-রে ফিল্মসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সরঞ্জাম সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।