চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর রেলস্টেশনে আট দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জয়রামপুর রেলস্টেশন নানা সমস্যায় জর্জরিত। গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে যাত্রীসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার দাবি দীর্ঘদিনের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি পালন করেন।
কর্মসূচির সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি জয়রামপুর স্টেশনে প্রায় ২০ মিনিট আটকে থাকে। পরে রেলওয়ের কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলে তারা রেললাইন থেকে সরে যান। এরপর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জয়রামপুর রেলস্টেশনে সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনের নিয়মিত স্টপেজ চালু করা।
এ ছাড়া স্টেশনে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, স্টেশন মাস্টারের পদ পূরণ, লুপ লাইন পুনরায় চালু এবং টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবিও রয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো স্টেশন ভবনের ঐতিহ্য ধরে রেখে নতুন একটি হলঘর নির্মাণের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন আন্দোলনকারীরা।
স্থানীয়দের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো পোড়াদহ-গোয়ালন্দঘাট রুটে চলাচলকারী শাটল ট্রেনটি দর্শনা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা।
এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বর্তমানে চলাচলকারী লোকাল ট্রেনগুলোর বগির সংখ্যা বাড়ানোর দাবি রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, পর্যাপ্ত ট্রেন ও বগি না থাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে জয়রামপুর রেলস্টেশন এলাকায় মানববন্ধন শুরু করেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে তারা রেললাইনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
এতে রাজশাহী থেকে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় ২০ মিনিট আটকে যায়। আন্দোলনকারীরা এ সময় তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য দেন এবং রেল কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন।
খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে দাবিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার তাদের সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। পরে জয়রামপুর রেলস্টেশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জয়রামপুর রেলস্টেশনটি শুধু স্থানীয় যাত্রীদের জন্য নয়, আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্টেশনের সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের মতে, আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু, টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং স্টেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হলে যাত্রীসেবার মান অনেকটা বাড়বে।
এখন সোমবারের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা। ওই আলোচনায় তাদের দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা করছেন তারা।
কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রবীণ নাগরিক, সাবেক সেনাসদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।