**সিলেটের ওসমানীনগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও তেলবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম (কসরতল) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।**
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি তেলবাহী ট্রাক ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা মোট সাতজন আহত হন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। ফলে এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় চারজনে। আহত আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছেন।
দুর্ঘটনায় জড়িত তেলবাহী ট্রাকটির নম্বর **ঢাকা মেট্রো-ঢ ৪৪-০৬৫৪**। ট্রাকটি সিলেট থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। অপরদিকে দুর্ঘটনার শিকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির নম্বর **মৌলভীবাজার-থ ১১-৮৩৫৩** বলে জানা গেছে।
### পুলিশের বক্তব্য
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা এবং হাইওয়ে পুলিশের শেরপুর থানার ওসি আনিসুর রহমান দুর্ঘটনার পর জানিয়েছিলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচ থেকে ছয়জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন বলে তারা প্রাথমিকভাবে শুনেছিলেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দেয়। একই সঙ্গে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরানোর উদ্যোগ নেন।
### একের পর এক দুর্ঘটনায় উদ্বেগ
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এর মাত্র ১৫ দিন আগেই একই মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নয়জন নিহত হন।
গত **৭ আগস্ট শুক্রবার সকালে** ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রথমে কয়েকজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও কয়েকজনের মৃত্যু হলে ওই দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়জনে।
ওই দুর্ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় একই মহাসড়কে আবারও চারজনের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
### ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়ক নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ ভারী যানবাহনের পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনও চলাচল করে। ফলে অনেক সময় ছোট যানবাহনগুলো ভারী যানবাহনের মুখোমুখি হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন। এতে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা কমাতে মহাসড়কে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা এবং চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করা প্রয়োজন।
### নিরাপদ সড়কের দাবি
একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি, চালকদের লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পরপর দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয়রা দ্রুত মহাসড়কটিকে আরও নিরাপদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
**দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের পরিচয় এবং আহতদের বিস্তারিত পরিচয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর জানা যাবে।**