ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, ভিকটিম তার স্বামীর সাথে ডিভোর্সের পর থেকে গাজীপুর গার্মেন্টসে চাকুরী করতেন। বিগত এক বছর পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বিবাদী মাহাবুবের সাথে ভিকটিমের পরিচয় হয়। এর পর থেকে বিবাদীর সাথে বিভিন্ন সময় ফেসবুক মেসেঞ্জারে ভিকটিমের কথা হতো। একপর্যায় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিগত ৬/৭ মাস পূর্বে বিবাদী ভিকটিমকে জানায় যে, সে ছুটিতে দেশে এসেছে তাই তার সাথে দেখা করতে চায়। ভিকটিম বিবাদীর কথা মত গত ১৫/১১/২০২৫ খ্রি. তারিখ বিকাল অনুমান ৪.০০ ঘটিকার সময় যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় দেখা করে অটোতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাফেরা শেষে বাসায় চলে যায়। পরবর্তীতে আবার গত ০১/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখ যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিবাদীর সাথে দেখা করতে গেলে বিবাদী ভিকটিমকে বিবাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার ভ্যাড়াকৃত রুমের ভিতর নিয়ে যৌনকর্ম করে। এছাড়াও বিবাদী বিভিন্ন সময়ে ভিকটিমের সাথে যৌনকর্ম করে এবং কৌশলে ভিডিও মোবাইলে ধারন করে রাখে। পরবর্তীতে বিবাদী ভিকটিমকে জানায় যে, তাদের যৌনকর্মের ভিডিও তার মোবাইলে ধারন করা আছে এবং এই জন্যে তাকে ০৭ লক্ষ টাকা দিতে হবে; অন্যথায় উক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে বলে হুমকি প্রদান করে। অতঃপর ভিকটিম নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন সময় সর্বমোট ০৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিবাদীকে প্রদান করেন। পরবর্তীতে ভিকটিম প্রেগনেন্সি কিট দিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েছেন। উক্ত বিষয়ে বিবাদীকে অবহিত করে বিবাহের কথা বললে সে ভিকটিমকে বিবাহ করবে না বলে জানায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে আসামিকে আইনের আওতায় আনতে র্যাব এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ, র্যাব-২, সিপিসি-৩ এবং র্যাব-১০, সদর কোম্পানী এর যৌথ আভিযানিক দল গত ০৭ জুন ২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক সকাল ০৯.৩০ ঘটিকার সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল মেডিক্যাল এর সামনে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা জেলার যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নং-১১৫, তাং-০৬/০৪/২৬ খ্রিঃ, ধারা- ৯(খ), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ তৎসহ ৮(১)/৮(২)/৮(৩) পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ ২০১২। এর মূলে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌনকর্ম ও ভিডিও করার দায়ে অভিযুক্ত আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী- মাহাবুব (৩১), পিতা- মামুন মিয়া, সাং- লালপুর, থানা- সুনামগঞ্জ সদর, জেলা- সুনামগঞ্জ।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এরশাদুল হক
জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ









