
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই থেমে গেল মরিয়ম খাতুনের জীবন। এক রাশ হতাশা, অভিমান আর না-পাওয়ার বেদনা সঙ্গে নিয়েই যেন পৃথিবীর অধ্যায় শেষ করেছেন তিনি। তাঁর অকালমৃত্যুর পর উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা কয়েকটি চিঠিতে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েন, সম্পর্কের জটিলতা ও গভীর কষ্টের কথা।
মরিয়ম খাতুন ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি পাওয়া যায়। এসব চিঠিতে নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও মানসিক অবস্থার কথা লিখে গেছেন মরিয়ম।
চিঠিগুলোতে সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে সম্পর্ক নিয়ে তাঁর হতাশা ও আক্ষেপ। ভালোবাসার সম্পর্কের ভেতরে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন, অধিকারবোধ, না-পাওয়ার যন্ত্রণা এবং বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতির কথা বিভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।
নিজের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও আক্ষেপ ছিল মরিয়মের। একটি চিঠিতে নিজেকেই ‘বোকা’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর লেখায় বোঝা যায়, সম্পর্কের বাস্তবতা ও প্রত্যাশার মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
এক চিঠিতে মরিয়ম লিখেছেন, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর। অন্য কারও স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ। কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের।’
মরিয়মের এই কথাগুলোতে ফুটে উঠেছে একটি অসম্পূর্ণ সম্পর্কের প্রতি তাঁর উপলব্ধি ও তীব্র অভিমান। নিজের অবস্থান এবং সম্পর্কের বাস্তবতা নিয়ে তিনি যে দ্বন্দ্বের মধ্যে ছিলেন, চিঠির ভাষায় তারই প্রতিফলন দেখা যায়।
মাত্র ১৯ বছরের জীবনে মরিয়ম যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁর শেষ লেখা চিঠিগুলো যেন তারই কিছু খণ্ডচিত্র। সেখানে একদিকে যেমন ভালোবাসা ও আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে হারানোর বেদনা, অভিমান এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার আভাস।
তবে মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে কোনো বিশেষ ঘটনা বা পরিস্থিতি ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়। হাতে লেখা চিঠিগুলো তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতির কিছু দিক তুলে ধরলেও সেগুলোর প্রেক্ষাপট ও অর্থ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও অন্যান্য তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।
অকালেই থেমে যাওয়া মরিয়মের জীবন তাই এখন রেখে গেছে অনেক প্রশ্ন। আর তাঁর শেষ চিঠির কয়েকটি লাইন হয়ে উঠেছে সেই প্রশ্নগুলোরই নীরব সাক্ষী।