শনিবার রাতে রাজধানীর গ্রিন রোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভোটের প্রচারে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতকে ইঙ্গিত করে ‘গুপ্ত’ বলে খোঁচা দিচ্ছেন এবং আওয়ামী লীগ আমলে জামায়াত আন্দোলনে ছিল না—এমন দাবি করছেন।
এর জবাবে জামায়াত আমির বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। ঢাকা-১০ আসনের জনসভায় তিনি বলেন, “দেশের মানুষকে বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে আমরা পালিয়ে যাইনি। ইচ্ছা করলে যেতে পারতাম। শুধু আমি নই, জামায়াতের কেউ পালিয়ে যাননি। নিশ্চিত মৃত্যুর আশঙ্কা জেনেও আমরা দেশে ফিরে এসেছি।”
তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বছরের পর বছর দেশবাসী কিছু মানুষের ছায়াও দেখেনি। সেই মানুষ যদি আমাকে বলে—গুপ্ত না সুপ্ত? হ্যাঁ, আমি গুপ্ত ছিলাম, কারাগারে দফায় দফায়। আপনি যদি এটাকে গুপ্ত বলেন, তাহলে আমি অবশ্যই গুপ্ত।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে ভোটের প্রচারে জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তা ও মারধর করছে। শফিকুর রহমান বলেন, “ভোট চাইতে গিয়ে যারা মায়েদের বুকে লাথি দিয়েছে, কাপড় খুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে, তারাই এখন ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর নামে মায়েদের প্রতি দরদ দেখাচ্ছে।”
ক্ষমতায় গেলে চামড়া শিল্প আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর হলেও তা এখনো আধুনিক শিল্পে রূপ নেয়নি। জামায়াত সরকার গঠন করলে এ খাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনসভায় তিনি ঢাকা-১০ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকারের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। জসীম উদ্দীন নির্বাচনী এলাকার বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সংকট ও জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে সমাধানের আশ্বাস দেন।
এর আগে শনিবার বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জের শাক্তা সরকারি স্কুল খেলার মাঠে আরেক জনসভায় বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি বলেন, জনগণের চাপের মুখে একটি দল গণভোট নিয়ে ধীরে ধীরে কথা বলতে শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, “যারা নিজেরাই বছরের পর বছর গুপ্ত ছিলেন, তারাই আজ মজলুমদের নিয়ে কথা বলছেন। অন্যের চেহারা দেখার আগে নিজের চেহারা দেখুন।”
তিনি অতীতের শাসকদের সমালোচনা করে বলেন, দেশকে গুম, খুন ও ‘আয়নাঘর’ সংস্কৃতির মাধ্যমে শ্মশানে পরিণত করা হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ক্ষমতায় গেলে কেরানীগঞ্জকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করে পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরায়ণ গড়ে তোলা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জনসভায় ঢাকা-১ আসনের ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ঢাকা-২ আসনের কর্নেল (অব.) আব্দুল হক, ঢাকা-৩ আসনের অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম, এনসিপির ঢাকা-১৯ আসনের দিলশাদ পারুল ও ঢাকা-২০ আসনের নাবিলা তাসনিদকে প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা জেলা আমির দেলোয়ার হোসাইন।
এর আগে শনিবার সকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এইচ জে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, “আমরা আধিপত্যবাদ মানব না, ফ্যাসিবাদ চাই না, দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারও চাই না। শত নির্যাতনের মাঝেও দেশ ছাড়িনি। আমরা মজলুম ছিলাম বলেই মজলুমের কষ্ট বুঝি—তাই আমরা কখনও জালিম হবো না।”
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে তাহেরকে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে দেখা যাবে।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, ডাকসু ভিপি আবু সাদেক কায়েমসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।