মোশন ফার্স্ট লুকে হাজির প্রিন্স, তুফান ও বরবাদকে টপকাতে পারল কি

সাম্প্রতিক সময়ে চলচ্চিত্র কিংবা বড় বাজেটের প্রজেক্টের প্রচারণায় ‘মোশন ফার্স্ট লুক’ একটি জনপ্রিয় ও কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে। মূলত এটি একটি ছোট অ্যানিমেটেড বা সচল পোস্টার, যা সিনেমার ধরণ-অ্যাকশন, রোমান্টিক বা গ্যাংস্টার এবং কেন্দ্রীয় চরিত্রের আভাস দিয়ে দর্শকের কৌতূহল তৈরি করে। গত কয়েক বছর ধরে ঢালিউডের ঈদের সিনেমাগুলোতে নিয়মিতভাবেই দেখা যাচ্ছে এই মোশন লুক প্রকাশের প্রবণতা। শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ কিংবা আরিফিন শুভ অভিনীত একাধিক সিনেমায় এর নজির রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল প্রকাশিত হয়েছে শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘প্রিন্স’–এর মোশন ফার্স্ট লুক। ১৬ সেকেন্ডের এই মোশন পোস্টারে শাকিব খানকে দেখা গেছে একেবারেই ভিন্ন এক লুকে। মুখভর্তি দাঁড়ি, লম্বা চুল, চোখে সানগ্লাস এবং হাতে ইউনিক ডিজাইনের একটি বড় মিউজিক্যাল মেশিনগান-কালো গাউনে তার উপস্থিতি সিনেমাটির চরিত্র ও গল্পের ধরন সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়।

মোশন লুকটি প্রকাশ করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘সে ক্ষমতার পেছনে ছোটে না, ক্ষমতাই তাকে অনুসরণ করে।’ প্রকাশের পরপরই লুকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শাকিব খানের ভক্তদের একটি বড় অংশ লুকটির প্রশংসা করলেও, সিনেমা বিশ্লেষকদের মতে মাত্র ১৬ সেকেন্ডের এই মোশন লুকে কাঙ্ক্ষিত কারিশমা তুলে ধরতে পারেননি পরিচালক। অনেকের চোখে শাকিব খানের এক্সপ্রেশনে ছিল ঘাটতি। এমনকি কেউ কেউ এটিকে অতিরিক্ত এআই-নির্ভর ভিজ্যুয়াল বলেও মন্তব্য করছেন।

এর আগে রায়হান রাফী পরিচালিত ‘তুফান’ এবং মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘বরবাদ’ সিনেমার মোশন ফার্স্ট লুক প্রকাশ পেয়েছিল। সেগুলো দর্শকমহলে তুলনামূলকভাবে বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। ফলে অনেকের প্রত্যাশা ছিল, ‘প্রিন্স’ সেই লুকগুলোকে টপকে যাবে। তবে সে প্রত্যাশা পূরণে কিছুটা পিছিয়েই পড়েছে পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদের এই সিনেমাটি-এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্রিয়েটিভ ল্যান্ডের ব্যানারে নির্মিত হচ্ছে ‘প্রিন্স’। সিনেমাটির একটি অংশের শুটিং ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কায় সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই বাকি কাজ শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ।

‘ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’-এই ট্যাগলাইনের সিনেমাটিতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করছেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু ও সাবিলা নূর। পাশাপাশি আরও রয়েছেন নাসির উদ্দিন খান, রাশেদ মামুন অপু, ইন্তেখাব দিনার, ডা. এজাজ ও শরীফ সিরাজ।