বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) একাদশ আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে আয়ের অংশ ভাগাভাগির যে ধারা শুরু হয়েছিল, তার উদ্যোক্তা ছিলেন বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ। তাঁর সময়েই প্রথমবার টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ সাতটি দলের মধ্যে বণ্টন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, চলতি মৌসুম থেকে এই লভ্যাংশের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। নীতিগতভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মোট মুনাফার প্রায় ৩০ শতাংশ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এবারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় প্রত্যাশিত পরিমাণ লাভ নাও হতে পারে। সে কারণে এখনই ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য নিশ্চিত কোনো সুখবর দিতে পারছেন না তারা। তবুও দলগুলোর আশা, অন্তত সম্মানজনক অঙ্কের লভ্যাংশ তারা পাবে। অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজির ধারণা, প্রতিটি দল দেড় থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত পেতে পারে।
এর আগে বিসিবির সাবেক পরিচালক এবং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বিপিএলকে দেশের ক্রিকেট উন্নয়নের একটি প্রকল্প হিসেবে দেখতেন। সে সময় ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে লাভ ভাগাভাগির বিষয়ে তিনি আগ্রহী ছিলেন না। তবে ফারুক আহমেদ বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন এবং দলগুলোর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে টিকিট বিক্রির আয় থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অর্থ দেওয়া হয়। সুপার ফোরে জায়গা পাওয়া চারটি দল প্রত্যেকে ৫৫ লাখ টাকা করে পায়। বাকি তিনটি দলকে দেওয়া হয় ৪৮ লাখ টাকা করে। বর্তমান বিসিবি কমিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি করেছে।
চলতি মৌসুম থেকে রাজস্ব ভাগাভাগির নীতি আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। আয়-ব্যয়ের চূড়ান্ত হিসাবের পর ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে মোট লাভের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী শানিয়ান তানিন বলেন, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী তারা লাভের অংশ পাওয়ার অধিকারী। আয় থেকে সব খরচ বাদ দেওয়ার পর যে মুনাফা থাকবে, সেখান থেকেই লভ্যাংশ দেওয়া হবে বলে তারা আশা করছেন।
এবার বিপিএলে নতুন হিসেবে যুক্ত হওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেসের চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক তৌহিদও আশাবাদী। তাঁর মতে, প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মতো পেতে পারে।
এদিকে এবারের বিপিএলে ইতিহাসের সবচেয়ে কম দামে মিডিয়া স্বত্ব বিক্রি হয়েছে। ১১ কোটি ১০ লাখ টাকায় এই স্বত্ব কিনেছে মিডিয়াকম। মাঠের বিজ্ঞাপন স্বত্ব প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হয়নি। টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সরও পাওয়া গেছে শেষ মুহূর্তে। বসুন্ধরা গ্রুপ নিজ উদ্যোগে এই স্পন্সরশিপে যুক্ত হয়েছে। টেলিভিশন স্বত্ব ও স্পন্সর থেকে সব মিলিয়ে বিসিবির আয় প্রায় ১৫ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।
টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে আনুমানিক ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। মধুমতি ব্যাংক স্পন্সর হিসেবে দিয়েছে এক কোটি টাকা। পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি বাবদ আরও ১২ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে বিসিবির মোট আয় প্রায় ৩৪ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
অন্যদিকে ব্যয়ের দিকও কম নয়। টিভি প্রডাকশন ও টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনায় বড় অঙ্কের অর্থ খরচ হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের পুরস্কারমূল্য হিসেবে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে ব্যক্তিগত পুরস্কারের অর্থ। এসব কারণে বিসিবির কর্মকর্তাদের ধারণা, দ্বাদশ বিপিএল থেকে বোর্ড উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখবে না।
এ বিষয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, এবারে খরচ খুব বেশি হয়নি। সব হিসাব চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রকৃত লাভের অঙ্ক জানা যাবে। তখনই বোঝা যাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কী পরিমাণ লভ্যাংশ পাবে। তিনি আরও জানান, আগের বছরের মতো এবারও সুপার ফোরে ওঠা দলগুলো তুলনামূলক বেশি লভ্যাংশ পেতে পারে।