সংকট নিরসনে হস্তক্ষেপ চান কারিগরি শিক্ষার্থীরা

ন্যায়সংগত হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কারিগরি ছাত্র আন্দোলন। এতে কারিগরি শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, প্রকৌশল খাতে চলমান বৈষম্যের অবসান এবং জাতীয় উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। 

কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশের সভাপতি মাসফিক ইসলামের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে এই খাত অবহেলা, বৈষম্য ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আসছে।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও কারিগরি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার উপেক্ষা করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। বেকারত্বকে পুঁজি করে ভ্রান্ত তথ্য প্রচার, আর্থিক লেনদেন ও প্রভাব খাটিয়ে এক পক্ষের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এটি প্রকৌশল খাতে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। ডিপ্লোমা ও বিএসসি প্রকৌশলীদের মধ্যকার পেশাগত জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। একপক্ষীয়ভাবে গঠিত এই কমিটি সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে সংকট আরও ঘনীভূত করেছে। 

কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে অবহেলা করে কোনো দেশ টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। দ্রুত উন্নত বিশ্বের কাতারে পৌঁছাতে হলে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে তারা প্রধান উপদেষ্টার ন্যায়বিচারভিত্তিক ও রাষ্ট্রনায়কোচিত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 
স্মারকলিপিতে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো– ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা, তিন বছর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নবম গ্রেডে আবেদনের সুযোগ পুনর্বহাল, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার দশম গ্রেডের পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের আবেদনাধিকার নিশ্চিত করা এবং জেনারেল ক্যাডারে প্রকৌশলীদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ। 

এ ছাড়া পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা ও ডিগ্রি প্রকৌশলীদের মধ্যে সমতা নিশ্চিত, ক্রেডিট আওয়ারের ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি, আইইবি ও বিএইটিইর একচ্ছত্র কর্তৃত্বের অবসান ও কারিকুলামের ন্যায্য সমতা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।