স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার নয় এবং কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের পাহারাদার হিসেবেও কাজ করে না। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান দায়িত্ব জনগণের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
রোববার রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ সদস্যদের অবশ্যই অন্যায় নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া যাবে না। তিনি বলেন, প্রকৃত সাহসিকতা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকা। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা ও সততা বজায় রাখাই পুলিশের প্রকৃত পরিচয়।
পুলিশ বাহিনীর প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, মানবিকতা, নৈতিকতা, পেশাগত দক্ষতা, বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত থাকতে হবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। নির্বাচন যাতে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ সময় তিনি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশনা মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দেয় এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দায়িত্বচ্যুত হন, তবে তা রাষ্ট্রের ভিত্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। তিনি পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রশিক্ষণরত কর্মকর্তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি। অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানান বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী।
প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য বেস্ট প্রবেশনার হিসেবে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। একাডেমিক ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন মো. মেহেদী আরিফ। মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে সেরা হন মো. সজীব হোসেন। বেস্ট হর্সম্যানশিপ পুরস্কার লাভ করেন মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শ্যুটার নির্বাচিত হন সালমান ফারুক।
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী আজ আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জন প্রশিক্ষণার্থীর পাশাপাশি ২৮তম, ৩৫তম, ৩৬তম, ৩৭তম ও ৪০তম বিসিএস থেকে মোট নয়জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।