বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুপারিশ করেছে, দেশের কিছু নির্দিষ্ট কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বন্ধ করা হোক। দেশের স্থানীয় টেক্সটাইল মিলগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতার জন্য শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-কে পাঠানো হয়েছে।

দুই দশক ধরে সরকার রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতকে উৎসাহিত করতে সুতা আমদানি সুবিধা দিয়ে আসছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্পীরা কম খরচে কাঁচামাল আনা সম্ভব হয়ে থাকে। তবে দেশীয় মিলগুলো অভিযোগ করছে, এই সুবিধার অপব্যবহারে প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে ভারত থেকে সস্তায় সুতা প্রবেশ করেছে। ফলে দেশীয় কারখানাগুলো ন্যায্য দামে কাঁচামাল বিক্রি করতে পারছে না এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর চাপ পড়ছে।

বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ও ২৯ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে দুই দফা আবেদন জমা দেয়। এরপর বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, যা ৬ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে জমা হয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এনবিআর-কে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে পোশাক ও বস্ত্র খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫ শতাংশ। নিট পোশাক উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হলো ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা, যা বাংলাদেশে মূলত ভারত থেকে আসে। বিটিএমএ জানিয়েছে, দেশে এক কেজি সুতা উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রায় ৩ ডলার, যেখানে ভারত একই মানের সুতা উৎপাদন করে ২.৮৫–২.৯০ ডলারে এবং বাংলাদেশে বিক্রি করে প্রায় ২.৫ ডলারে।

গত দুই অর্থবছরে বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ফলে দেশীয় উৎপাদিত সুতার বিক্রি কমেছে। বর্তমানে স্থানীয় কারখানাগুলো তাদের উৎপাদনক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। আর্থিক চাপের কারণে ইতোমধ্যে ৫০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, এ ধারা চলতে থাকলে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মনে করছে, যদি দেশীয় সুতা কারখানা বন্ধ হয়, তবে নিট পোশাক খাত পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে। এতে শিল্পের প্রতিযোগিতা কমবে, উৎপাদন সময় বাড়বে, মূল্য সংযোজন হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে বন্ড সুবিধা বজায় থাকবে কি না, তা চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবে এনবিআর।