আইসিসি বোলারের র‍্যাংকিং এ ৭ নম্বরে মোস্তাফিজ

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে যেসব খেলোয়াড় নিজেদের দক্ষতা ও ধারাবাহিকতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছেন, মোস্তাফিজুর রহমান তাঁদের অন্যতম। বাঁহাতি এই ফাস্ট বোলার তার ভিন্নধর্মী কাটার, নিখুঁত লাইন–লেন্থ ও চাপের মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার সামর্থ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বর্তমানে আইসিসি বোলারদের র‍্যাংকিংয়ে সপ্তম স্থানে অবস্থান করা মোস্তাফিজ তাঁর দীর্ঘ ও সংগ্রামী ক্রিকেট ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেলেন।
১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি নজরে আসেন জাতীয় নির্বাচকদের। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অভিষেকেই ইতিহাস গড়েন মোস্তাফিজ। সেই সিরিজে তিনি মোট ১৩টি উইকেট নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেন এবং বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন।
এরপর একই বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও তিনি দুর্দান্ত বোলিং করেন। ২০১৫ বিশ্বকাপে এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর কাটার ও স্লোয়ারের বৈচিত্র্য অনেক ব্যাটসম্যানের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। মোস্তাফিজ দ্রুতই বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র হয়ে ওঠেন।
ইনজুরির কারণে তাঁর ক্যারিয়ারে কিছুটা বাধা এলেও তিনি বারবার ফিরে এসে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই তিনি বাংলাদেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর ইকোনমি রেট ও ডেথ ওভারের বোলিং দলকে বহু ম্যাচে জয় এনে দিয়েছে।
আইপিএলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও মোস্তাফিজ খেলেছেন সাফল্যের সঙ্গে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলে তিনি বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের আইপিএল জয়ে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।
বর্তমানে আইসিসি বোলার র‍্যাংকিংয়ে সপ্তম স্থানে থাকা মোস্তাফিজুর রহমান প্রমাণ করেছেন যে তিনি এখনও বিশ্বমানের বোলারদের কাতারে রয়েছেন। অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম ও মানসিক দৃঢ়তার সমন্বয়ে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক অনুপ্রেরণার নাম। সামনের দিনগুলোতে তাঁর কাছ থেকে আরও অনেক সাফল্য প্রত্যাশা করে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।