
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত এক নারীর বিরুদ্ধে হানিট্র্যাপে ফেলে এক মোবাইল ব্যবসায়ীকে মারধর, নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং আরও দেড় লাখ টাকা আদায়ের জন্য ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটরসহ দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এ ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক জড়িত।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কদমতলায় খাদিজাতুল কোবরা মাদরাসার তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। আটক দুই নারী হলেন কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের সুমনের স্ত্রী অঞ্জনা আক্তার (২৫) ও ঢেউখালী ইউনিয়নের বক্সডাঙ্গী গ্রামের মনির মাতুব্বরের স্ত্রী মালা আক্তার (১৯)। অঞ্জনা ও তার স্বামী সুমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খান (২৮) অভিযোগ করেন, অঞ্জনা তার কলেজজীবনের পরিচিত। কয়েক দিন আগে অঞ্জনা তাকে মালা আক্তারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর মালার সঙ্গে তার মুঠোফোনে মাঝেমধ্যে কথা হতো। গত ২০ অক্টোবর রাতে অঞ্জনার ডাকে মাদরাসার একটি কক্ষে যান তিনি। সেখানে আগে থেকেই মালা অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে অঞ্জনা মালাকে কক্ষে রেখে বাইরে যাওয়ার কথা বলে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন বলে অভিযোগ করেন ইব্রাহিম।
ইব্রাহিমের অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর মালা কক্ষে কান্নার অভিনয় করেন। এরপর অঞ্জনার স্বামী সুমনসহ ১০ থেকে ১২ জন যুবক সেখানে আসেন। তারা তাকে আটকে রেখে মারধর করেন। এ সময় তার আইফোন ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তাকে প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে কৌশলে আত্মীয় সোহেল মোল্যাকে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন ইব্রাহিম। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সোহেল পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে। এ সময় অঞ্জনার স্বামী সুমনসহ অন্য অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও অঞ্জনা ও মালাকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ইব্রাহিম খান অঞ্জনা আক্তার ও মালা আক্তারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সদরপুরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, এসব ব্যক্তি বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে দলবদ্ধভাবে ভিডিও তৈরি, নাচ-গানসহ নানা আয়োজন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি ও অনুসারী বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় তাদের কর্মকাণ্ডের ধরন এবং এর সামাজিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, কনটেন্ট তৈরির আড়ালে কেউ যদি প্রতারণা, হয়রানি কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তার পরিচয় বা জনপ্রিয়তা বিবেচনা না করে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির নামে কেউ যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিতে না পারেন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সদরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। অন্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ফরিদপুর প্রতিনিধি 


















