Dhaka ০৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে কৌশলে টয়লেটে নিয়ে গেলেন শিক্ষক, অতঃপর… সাত মাসে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ১১১ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ১৪ ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য, অবশেষে জামিন পেলেন নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার সুনামগঞ্জে দুই সেতুর কাজ বন্ধ, এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ঠিকাদারের সিলেট শাহী ঈদগাহকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে ৫ কোটি টাকার প্রকল্প—সিসিক প্রশাসক শি শু মুহিন হ ত্যার দায়ে ২ জনের মৃ ত্যুদণ্ড চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে বেদম পেটালেন নেতা ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বার্তা দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতের সমর্থন ছাড়ার ঘোষণা, ভিডিও ভাইরাল মাদকাসক্ত প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল

১০ বছরের শি শুকে ধ র্ষণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ইয়াসিন মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির মা।

ঘটনার পর অভিযুক্তের পক্ষের লোকজনের হুমকির কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কসবা থানায় মামলাটি করা হয়।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে থানায় আনা হলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ী গ্রামের বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে যায় শিশুটি। বাজার থেকে তেল নিয়ে ফেরার পথে ফার্নিচারের দোকানের মালিক ইয়াসিন মিয়া শিশুটির হাত ও মুখ চেপে ধরে দোকানে নিয়ে যান। সেখানে জোরপূর্বক শিশুটির কাপড় খুলে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় চিৎকার করলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তার হাতে ২০ টাকার একটি নোট দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে শিশুটি তার মাকে ঘটনাটি জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিযুক্তের বংশের লোকজনকে জানান। এ কারণে মামলা করতে দুই থেকে তিন দিন দেরি হয় বলে জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।শিশুটির বাবা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্রবার রাতে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে দুই পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে ১২ জনের সমন্বয়ে একটি বিচারক প্যানেল গঠন করে অভিযুক্তকে ক্ষমা চাওয়ানোর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

তবে শিশুটির বাবা ওই বিচার মেনে না নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানান। এ সময় অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়া, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম, কামাল হোসেন, শহিদ মিয়াসহ প্রতিপক্ষের লোকজন মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে পরিবারটি প্রথমে মামলা করতে ভয় পায়। পরে সন্তানের প্রতি নির্যাতনের বিচার চেয়ে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন।

আরও পড়ুনঃ  বিদ্যুতের সুইচ ভারতের হাতে, যে কোনো সময় বন্ধ করতে পারে: রিজভী

অভিযোগের বিষয়ে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুই বংশের লোকজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বৈঠকে বসেছিলেন। ধর্ষণের বিচার প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা করবেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিশুটির পরিবারকে সহযোগিতা করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। অভিযুক্ত তাঁর আপনজন হলেও তার বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর চিকিৎসক ডা. শায়লা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, হাতুরাবাড়ীতে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে কৌশলে টয়লেটে নিয়ে গেলেন শিক্ষক, অতঃপর…

১০ বছরের শি শুকে ধ র্ষণ

Update Time : ১১:৪৪:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ইয়াসিন মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির মা।

ঘটনার পর অভিযুক্তের পক্ষের লোকজনের হুমকির কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কসবা থানায় মামলাটি করা হয়।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে থানায় আনা হলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ী গ্রামের বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে যায় শিশুটি। বাজার থেকে তেল নিয়ে ফেরার পথে ফার্নিচারের দোকানের মালিক ইয়াসিন মিয়া শিশুটির হাত ও মুখ চেপে ধরে দোকানে নিয়ে যান। সেখানে জোরপূর্বক শিশুটির কাপড় খুলে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় চিৎকার করলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তার হাতে ২০ টাকার একটি নোট দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে শিশুটি তার মাকে ঘটনাটি জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিযুক্তের বংশের লোকজনকে জানান। এ কারণে মামলা করতে দুই থেকে তিন দিন দেরি হয় বলে জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।শিশুটির বাবা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্রবার রাতে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে দুই পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে ১২ জনের সমন্বয়ে একটি বিচারক প্যানেল গঠন করে অভিযুক্তকে ক্ষমা চাওয়ানোর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

তবে শিশুটির বাবা ওই বিচার মেনে না নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানান। এ সময় অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়া, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম, কামাল হোসেন, শহিদ মিয়াসহ প্রতিপক্ষের লোকজন মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে পরিবারটি প্রথমে মামলা করতে ভয় পায়। পরে সন্তানের প্রতি নির্যাতনের বিচার চেয়ে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন।

আরও পড়ুনঃ  তিন দিন নিখোঁজের পর খালে মিলল ৯ বছরের শি শুর মরদেহ

অভিযোগের বিষয়ে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুই বংশের লোকজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বৈঠকে বসেছিলেন। ধর্ষণের বিচার প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা করবেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিশুটির পরিবারকে সহযোগিতা করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। অভিযুক্ত তাঁর আপনজন হলেও তার বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর চিকিৎসক ডা. শায়লা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, হাতুরাবাড়ীতে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।