Dhaka ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, আইসিইউতে মেয়ে দেড় মিনিটের বক্তব্যে মন্ত্রীকে ২৫ বার ‘স্যার’ বললেন ইউএনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি কনটেন্ট ক্রিয়েটরের পরিচয়ে হানিট্র্যাপ, আটক ২ নারী ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় যুব মহিলা লীগের নেত্রী আটক কুষ্টিয়ায় লালনমেলা থেকে গাঁজা সেবনের ২ হাজার সরঞ্জাম জব্দ সাধুসঙ্গে নিজেকে ও অজানাকে জানছেন লালন ভক্তরা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ গবেষণার সুযোগ: মিলবে ১৩ হাজার ডলারের বৃত্তি প্রতিমা বিসর্জনস্থলে সিঁদুর খেলার সময় নববধূর মৃত্যু আইফোনের জন্য ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে পিটিয়ে হ ত্যা

ইয়াবা সেবনে বাধা,ঘুমন্ত শি’শুকেও রেহাই দেয়নি খু’নিরা

 

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে এবং সিদ্ধার্থ দাস বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা পরস্পর আত্মীয়।

নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে মাছুয়াপাড়ার ওই বাসা থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁরা ইয়াবা সেবন করছিলেন। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাঁদের সেখানে থাকার কারণ জানতে চাইলে পরিচয় গোপন রাখার জন্য তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গণপতির চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে গেলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে প্রার্থী এগিয়ে এলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

সর্বশেষ ঘুমন্ত অবস্থায় ১২ বছরের শিশু প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্তরা কিছু সময় ওই বাসায় অবস্থান করেন। তাঁরা বাসার বাথরুমে গোসল করেন এবং ডাইনিং টেবিলে থাকা খাবার খান। পরে অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করেন।

আরও পড়ুনঃ  সাবেক আইজিপি বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেফতার

ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা

পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করে রাখা হয়। আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে বাসায় থাকা দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, বাড়ি থেকে নেওয়া স্বর্ণালংকার একটি মন্দিরের পেছনের পরিত্যক্ত স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়। গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাতে ওই বাসা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ডাকাতির সন্দেহ করা হলেও তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসে। পরে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, আইসিইউতে মেয়ে

ইয়াবা সেবনে বাধা,ঘুমন্ত শি’শুকেও রেহাই দেয়নি খু’নিরা

Update Time : ০৪:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

 

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে এবং সিদ্ধার্থ দাস বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা পরস্পর আত্মীয়।

নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে মাছুয়াপাড়ার ওই বাসা থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁরা ইয়াবা সেবন করছিলেন। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাঁদের সেখানে থাকার কারণ জানতে চাইলে পরিচয় গোপন রাখার জন্য তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গণপতির চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে গেলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে প্রার্থী এগিয়ে এলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

সর্বশেষ ঘুমন্ত অবস্থায় ১২ বছরের শিশু প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্তরা কিছু সময় ওই বাসায় অবস্থান করেন। তাঁরা বাসার বাথরুমে গোসল করেন এবং ডাইনিং টেবিলে থাকা খাবার খান। পরে অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করেন।

আরও পড়ুনঃ  সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ পরিবার পেল ৭৭ লাখ টাকা

ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা

পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করে রাখা হয়। আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে বাসায় থাকা দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, বাড়ি থেকে নেওয়া স্বর্ণালংকার একটি মন্দিরের পেছনের পরিত্যক্ত স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়। গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাতে ওই বাসা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ডাকাতির সন্দেহ করা হলেও তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসে। পরে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।