Dhaka ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে কৌশলে টয়লেটে নিয়ে গেলেন শিক্ষক, অতঃপর… সাত মাসে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ১১১ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ১৪ ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য, অবশেষে জামিন পেলেন নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার সুনামগঞ্জে দুই সেতুর কাজ বন্ধ, এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ঠিকাদারের সিলেট শাহী ঈদগাহকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে ৫ কোটি টাকার প্রকল্প—সিসিক প্রশাসক শি শু মুহিন হ ত্যার দায়ে ২ জনের মৃ ত্যুদণ্ড চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে বেদম পেটালেন নেতা ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বার্তা দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতের সমর্থন ছাড়ার ঘোষণা, ভিডিও ভাইরাল মাদকাসক্ত প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল

ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৫ Time View

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো নামে এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার সকাল ৮টার দিকে তার মরদেহ বাড্ডার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে বাবার সঙ্গে কথা বলে নিজ কক্ষে যান মিমো। রোববার ভোরে ফজরের সময় দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আলামত ও পরিবারের বয়ানের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’তিনি আরও জানান, মিমোর কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ রয়েছে এবং ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা লেখা ছিল।

মিমোর বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করা হয়েছে এবং তার সেই সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গতকাল রাতে একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন সুদীপ। আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি, ঘটনার সঙ্গে সুদীপ চক্রবর্তীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। ফলে তাকে আটক করা হয়।’এ ঘটনায় মিমোর বাবা সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে সেই মামলায় সুদীপ চক্রবর্তীকে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এ দিকে বিভাগের চেয়ারপারসন সহকারী অধ্যাপক কাজী তামান্না হক বলেছেন, মুনিরা মাহজাবিন মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি সকাল ৮ টায় খবর পেয়েছি। আমরা শুনতে পেয়েছি, একটা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুনঃ  ভারতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী, হুমায়ূন কবীরের ঘোষণার পরই বিদ্যুৎ নিয়ে আদানির তালবাহানা!

এদিকে মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। এক শোক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের বিভাগের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন অনাকাঙ্খিতভাবে আমাদের সকলকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। অনেক উৎফুল্ল আর বলিষ্ঠ স্বভাবের মাহজাবিন এমন সিদ্ধান্ত নিবে, আমরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছি না। এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে কৌশলে টয়লেটে নিয়ে গেলেন শিক্ষক, অতঃপর…

ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক গ্রেপ্তার

Update Time : ০৫:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো নামে এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার সকাল ৮টার দিকে তার মরদেহ বাড্ডার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে বাবার সঙ্গে কথা বলে নিজ কক্ষে যান মিমো। রোববার ভোরে ফজরের সময় দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আলামত ও পরিবারের বয়ানের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’তিনি আরও জানান, মিমোর কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ রয়েছে এবং ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা লেখা ছিল।

মিমোর বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করা হয়েছে এবং তার সেই সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গতকাল রাতে একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন সুদীপ। আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি, ঘটনার সঙ্গে সুদীপ চক্রবর্তীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। ফলে তাকে আটক করা হয়।’এ ঘটনায় মিমোর বাবা সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে সেই মামলায় সুদীপ চক্রবর্তীকে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এ দিকে বিভাগের চেয়ারপারসন সহকারী অধ্যাপক কাজী তামান্না হক বলেছেন, মুনিরা মাহজাবিন মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি সকাল ৮ টায় খবর পেয়েছি। আমরা শুনতে পেয়েছি, একটা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুনঃ  নির্বাচনের আগেই ঠকাচ্ছে একটি দল তারেক রহমান

এদিকে মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। এক শোক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের বিভাগের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন অনাকাঙ্খিতভাবে আমাদের সকলকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। অনেক উৎফুল্ল আর বলিষ্ঠ স্বভাবের মাহজাবিন এমন সিদ্ধান্ত নিবে, আমরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছি না। এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।