
পাবনার ঈশ্বরদীতে শোভন আহম্মেদ (২৯) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর নলগাড়ী এলাকার নানার বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শোভন আহম্মেদ ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া মধ্য অরণকোলা এলাকার মো. রঞ্জুর ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
সকালে কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে বাড়ির একটি কক্ষে শোভনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শোভনের মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্য
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, শোভনের সঙ্গে এক তরুণীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে কিছুদিন ধরে বলা হচ্ছিল।
এ বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শোভনের মনোমালিন্য চলছিল বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে শোভন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর
ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
তবে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যেও দুঃখ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পাবনা প্রতিনিধি 



















