
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সামনে এসেছে মেয়ের এক বান্ধবীকে নিয়ে মায়ের উদ্বেগের বিষয়টি। ওই বান্ধবীকে ভালো মনে না হওয়ায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি বলে জানিয়েছেন তাজমিনের মা। মেয়ের চলাফেরা ও বন্ধুত্ব নিয়ে সতর্ক থাকার পরও শেষ পর্যন্ত সন্তানকে হারাতে হলো তাকে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগের দিন বুধবার বিকেল ৪টার দিকে মেয়ের সঙ্গে মায়ের সর্বশেষ কথা হয়। ওই সময়ও মেয়ের কাছে তার বান্ধবীর নাম ও বাসার ঠিকানা জানতে চান তিনি। মেয়েকে বাসায় ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়ে তাজমিনের মা বলেন, ‘তোর বান্ধবীর নাম বল, বাসার ঠিকানা বল, বাসায় গিয়ে নিয়ে আসব।’এরপর তাজমিনের সঙ্গে কী ঘটেছিল, কীভাবে সে লালমাইয়ের জগতপুর এলাকায় পৌঁছেছিল এবং ঘটনার সময় তার সঙ্গে কেউ ছিল কি না এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
তাজমিনের মা জানান, মেয়ের ওই বান্ধবীকে নিয়ে আগে থেকেই তার সন্দেহ ছিল। এ কারণে প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়ের চলাফেরার বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিয়মিত তার খোঁজখবরও নিতেন। কিন্তু এত সতর্কতার পরও মেয়েকে হারানোর শোক সইতে হচ্ছে তাকে।
তবে মায়ের উদ্বেগের কেন্দ্রে থাকা ওই বান্ধবীর সঙ্গে তাজমিনের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কাউকে দায়ী করার মতো তথ্যও এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি।
তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত করছে পুলিশ।
কুমিল্লা প্রতিনিধি 



















