Dhaka ০২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

চা খাতের উন্নয়নে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’

দেশের চা খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, উৎপাদন ব্যয় কমানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বাগানের আর্থিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ, সুদ কমানো, পুরোনো চা গাছের পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

দেশের চা শিল্পকে আরও লাভজনক ও টেকসই করতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং বাগানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে খাতটির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গত মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে চা শিল্পের উন্নয়নে গঠিত মনিটরিং ও পরামর্শক কমিটির প্রথম সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কমিটির প্রথম সভায় চা খাতের উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন
একই মাঠে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে সাফল্য
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ চা দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদনের বাকি অংশ রপ্তানি করা হচ্ছে। প্রথমে দেশের চাহিদা পূরণ এবং এরপর রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উৎপাদন ও চায়ের গুণগত মান বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদেশের বাজার অনুসন্ধান ও রপ্তানি সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট এবং রপ্তানিসংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদকেরা সবুজ চা, অর্থোডক্স চা, সাদা চা ও সিটিসি পদ্ধতিতে তৈরি কালো চাসহ বিভিন্ন ধরনের চা উৎপাদন করছেন। বিভিন্ন কোম্পানি মিশ্রণের মাধ্যমে নতুন স্বাদ ও বৈশিষ্ট্যের চা তৈরি করে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তুলছে।

চা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন পদ্ধতি, চায়ের মিশ্রণ তৈরি এবং রপ্তানি উন্নয়নেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  এবার এসএসসিতে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী ফেল

পুরোনো বাগান আধুনিকায়নে গুরুত্ব
কমিটির সভার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানের মোট জমির পরিমাণ ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৬ একর। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯১ একর চাষযোগ্য জমি হিসেবে চিহ্নিত। নার্সারিসহ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। এ ছাড়া ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৩৭ একর জমি অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য ১৬ হাজার ৯২৮ একর জমি অবশিষ্ট রয়েছে।

তবে বিকল্প বিনিয়োগের আগে এসব জমির ব্যবহার, বাগান পরিচালনা এবং পরিবেশগত বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালে দেশে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি ২৩ হাজার কেজি। দেশে প্রতি হেক্টরে গড় চা উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৫৫২ কেজি।

উৎপাদনের এই সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও অনেক বাগানের চা গাছ বেশ পুরোনো। কোনো কোনো গাছের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছর বা তারও বেশি। পর্যাপ্ত হারে নতুন চা গাছ লাগাতে না পারা, শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভারত, শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়ার তুলনায় কম উৎপাদনশীলতার কারণে উৎপাদকদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা চাপে রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নিজ কলেজ প্রাঙ্গণেও গেলেন প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের দিলেন দেশ গড়ার বার্তা

চা খাতের উন্নয়নে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’

Update Time : ১২:৪৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশের চা খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, উৎপাদন ব্যয় কমানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বাগানের আর্থিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ, সুদ কমানো, পুরোনো চা গাছের পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

দেশের চা শিল্পকে আরও লাভজনক ও টেকসই করতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং বাগানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে খাতটির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গত মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে চা শিল্পের উন্নয়নে গঠিত মনিটরিং ও পরামর্শক কমিটির প্রথম সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কমিটির প্রথম সভায় চা খাতের উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন
একই মাঠে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে সাফল্য
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ চা দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদনের বাকি অংশ রপ্তানি করা হচ্ছে। প্রথমে দেশের চাহিদা পূরণ এবং এরপর রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উৎপাদন ও চায়ের গুণগত মান বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদেশের বাজার অনুসন্ধান ও রপ্তানি সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট এবং রপ্তানিসংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদকেরা সবুজ চা, অর্থোডক্স চা, সাদা চা ও সিটিসি পদ্ধতিতে তৈরি কালো চাসহ বিভিন্ন ধরনের চা উৎপাদন করছেন। বিভিন্ন কোম্পানি মিশ্রণের মাধ্যমে নতুন স্বাদ ও বৈশিষ্ট্যের চা তৈরি করে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তুলছে।

চা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন পদ্ধতি, চায়ের মিশ্রণ তৈরি এবং রপ্তানি উন্নয়নেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ভূরুঙ্গামারীতে যৌথ অভিযানে ১৫ ফুটের গাঁজাগাছসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার

পুরোনো বাগান আধুনিকায়নে গুরুত্ব
কমিটির সভার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানের মোট জমির পরিমাণ ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৬ একর। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯১ একর চাষযোগ্য জমি হিসেবে চিহ্নিত। নার্সারিসহ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। এ ছাড়া ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৩৭ একর জমি অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য ১৬ হাজার ৯২৮ একর জমি অবশিষ্ট রয়েছে।

তবে বিকল্প বিনিয়োগের আগে এসব জমির ব্যবহার, বাগান পরিচালনা এবং পরিবেশগত বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালে দেশে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি ২৩ হাজার কেজি। দেশে প্রতি হেক্টরে গড় চা উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৫৫২ কেজি।

উৎপাদনের এই সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও অনেক বাগানের চা গাছ বেশ পুরোনো। কোনো কোনো গাছের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছর বা তারও বেশি। পর্যাপ্ত হারে নতুন চা গাছ লাগাতে না পারা, শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভারত, শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়ার তুলনায় কম উৎপাদনশীলতার কারণে উৎপাদকদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা চাপে রয়েছে।