ডেটে যাওয়ার আগে গোসল, পরিচ্ছন্ন পোশাক ও পারফিউম ব্যবহার—এতদিন এমন প্রস্তুতিকেই স্বাভাবিক মনে করা হতো। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এর বিপরীত একটি প্রবণতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘ফেরোমোন ম্যাক্সিং’ নামে পরিচিত এই ট্রেন্ডে দাবি করা হচ্ছে, পারফিউমের বদলে শরীরের স্বাভাবিক ঘামের গন্ধ নাকি আকর্ষণ বাড়াতে পারে।
এই প্রবণতার অনুসারীদের কেউ কেউ ডেটে যাওয়ার আগে গোসল না করা বা সুগন্ধি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও কিছু অদ্ভুত দাবিও ছড়িয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ফেরোমোন কী?
ফেরোমোন হলো এক ধরনের রাসায়নিক সংকেত, যা প্রাণীরা শরীর থেকে পরিবেশে ছড়িয়ে দেয় এবং একই প্রজাতির অন্য প্রাণীর আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। পিঁপড়ার চলাচল কিংবা কিছু পতঙ্গের সঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে এ ধরনের রাসায়নিক সংকেতের ভূমিকা রয়েছে।
তবে মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এমন কোনো নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ শনাক্ত করতে পারেননি, যাকে নিশ্চিতভাবে মানুষের যৌন ফেরোমোন বলা যায়।
ঘামের গন্ধ কি সত্যিই আকর্ষণ বাড়ায়?
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ পছন্দ-অপছন্দের ক্ষেত্রে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। পরিচিত ব্যক্তির শরীরের গন্ধ কারও কাছে ভালো লাগতে পারে, আবার অন্য কারও কাছে একই গন্ধ অপছন্দনীয় হতে পারে। গন্ধের সঙ্গে মানুষের স্মৃতি ও আবেগেরও সম্পর্ক রয়েছে।
১৯৯০-এর দশকের একটি গবেষণায় পুরুষদের ঘামে ভেজা টি-শার্ট নারীদের শোঁকানোর মাধ্যমে শরীরের গন্ধের পছন্দ নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও গবেষণা হলেও মানুষের আকর্ষণকে কেবল শরীরের গন্ধ বা কোনো নির্দিষ্ট ফেরোমোন দিয়ে ব্যাখ্যা করার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় গোসল না করা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে অপরিচ্ছন্ন থাকার মাধ্যমে আকর্ষণ বাড়ে—এমন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং ঘাম, মৃত কোষ, ময়লা ও জীবাণু জমে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে, যা অন্যের কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রস্রাব পান করার মতো কিছু পরামর্শও ছড়ালেও এর সঙ্গে যৌন আকর্ষণ বৃদ্ধির কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি।
গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ মত অনুযায়ী, মানুষের আকর্ষণ কোনো একটি রাসায়নিক সংকেতের ওপর নির্ভরশীল নয়। ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, আচরণ, যোগাযোগ, রসবোধ এবং পারস্পরিক মানসিক সংযোগসহ নানা বিষয় এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই ‘ফেরোমোন ম্যাক্সিং’ অনলাইনে আলোচিত হলেও, ডেটে যাওয়ার আগে ইচ্ছাকৃতভাবে অপরিচ্ছন্ন থাকার পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। নিজের স্বাভাবিক শরীরের গন্ধ থাকা স্বাভাবিক হলেও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
বিনোদন ডেস্ক 
























