Dhaka ০৯:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা ৩৩ কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাচ্ছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে নবনিযুক্ত প্রসিকিউটরদের যোগদান এক দফা দাবিতে এবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা আমার নোবেল পাওয়া উচিত, কিন্তু তারা দেবে কি না জানি না: ট্রাম্প বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান রেলস্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চুরি কঠিন শর্তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও চাকরি হয়নি ক্লীন্টনের, নদীভাঙনে হারিয়েছেন স্থায়ী ঠিকানা পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

‘আব্বা’ ডেকেও রেহাই পেলেন না ছাত্রদল নেতা

‘আব্বা’ ডেকেও রেহাই পেলেন না ছাত্রদল নেতা

মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগকারী মেহেদী হাসান ফারুক মহিপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। মঙ্গলবার কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ফারুকের অভিযোগ, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেন। পরে তাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি জানান, তাকে প্রথমে মহিপুরের একটি এলাকা থেকে নিয়ে পরে কলাপাড়ায় নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক দফায় তার ওপর মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ফারুক।

ফারুকের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের সময় তিনি অভিযুক্তদের কাছে নিজের পরিচয় দিয়ে এবং জীবন রক্ষার জন্য আকুতি জানান। এমনকি তাদের কাছে ‘আব্বা’ বলে সম্বোধন করেও নিজেকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

ফারুক আরও দাবি করেন, ঘটনার কিছু অংশ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়ে থাকতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় দুই বন্ধু তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বলে জানান ফারুক।

এদিকে, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা হুমকির মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন এই ছাত্রদল নেতা। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফারুক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  মৃত্যুর আগে শেষ অনুষ্ঠানে যা বলেছিলেন নানা পাটেকার

তবে ফারুকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানা। তাঁদের দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনাটি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন—ভুক্তভোগীর অভিযোগের সত্যতা কী এবং সত্যিই ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছিল কি না। তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনরা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা

‘আব্বা’ ডেকেও রেহাই পেলেন না ছাত্রদল নেতা

Update Time : ০৬:৫০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘আব্বা’ ডেকেও রেহাই পেলেন না ছাত্রদল নেতা

মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগকারী মেহেদী হাসান ফারুক মহিপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। মঙ্গলবার কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ফারুকের অভিযোগ, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেন। পরে তাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি জানান, তাকে প্রথমে মহিপুরের একটি এলাকা থেকে নিয়ে পরে কলাপাড়ায় নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক দফায় তার ওপর মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ফারুক।

ফারুকের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের সময় তিনি অভিযুক্তদের কাছে নিজের পরিচয় দিয়ে এবং জীবন রক্ষার জন্য আকুতি জানান। এমনকি তাদের কাছে ‘আব্বা’ বলে সম্বোধন করেও নিজেকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

ফারুক আরও দাবি করেন, ঘটনার কিছু অংশ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়ে থাকতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় দুই বন্ধু তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বলে জানান ফারুক।

এদিকে, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা হুমকির মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন এই ছাত্রদল নেতা। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফারুক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  সিলেট বোর্ডে এসএসসিতে বৃত্তি পেল ১১৬৪ শিক্ষার্থী

তবে ফারুকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানা। তাঁদের দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনাটি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন—ভুক্তভোগীর অভিযোগের সত্যতা কী এবং সত্যিই ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছিল কি না। তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনরা।