Dhaka ০৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অটোরিকশার ওপর উঠে গেল মালবাহী ট্রাক, নিহত ৫ বন্দরে পূজার ছুটির ‘ধাক্কা’ শুল্ক না দিয়েই ৭ কোটি টাকার পণ্য ছাড়! অবশেষে সেই ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি রণ.ক্ষেত্র উত্তরা: পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫০ বগুড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু, লাশের ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন ‘পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন না’, পুলিশ কর্মকর্তাকে ছাত্রলীগ নেতা কক্সবাজারে রিসোর্টে আ গুনে নিহত বেড়ে ১০ নিজ কলেজ প্রাঙ্গণেও গেলেন প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের দিলেন দেশ গড়ার বার্তা হঠাৎ শিশু হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী, কক্ষে ধূমপান করতে দেখেই চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে ভারতীয় অভ্যন্তরে গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

বন্দরে পূজার ছুটির ‘ধাক্কা’ শুল্ক না দিয়েই ৭ কোটি টাকার পণ্য ছাড়!

দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা আটদিনের আমদানি-রপ্তানি বিরতিতে যাচ্ছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল। এর মাঝেই প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের পণ্য শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই বের করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ঘিরেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে বন্দরের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, পণ্য খালাসের নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কাস্টমসের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুসারে, আজ শনিবার ১৭ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। দুই দেশের ছুটির সময়সূচির সমন্বয় না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২৫ অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক বাণিজ্য শুরুর কথা থাকলেও দীর্ঘ বিরতির পর বন্দরে পণ্যজট, পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি এবং খালাসে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের পরিবহন ব্যয়সহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর মধ্যেই ৮ অক্টোবর বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকে সিনথেটিক কাপড়, শাড়ি ও থ্রিপিসসহ উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য শুল্ক পরিশোধ কিংবা বৈধ এন্ট্রি ছাড়াই বের করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ঢাকার সদরঘাট এলাকায় দুটি ট্রাক থেকে এসব পণ্য উদ্ধার হয়। আটক পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য সাত কোটি টাকা। ওই ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও সামনে আসে।

অভিযোগ অনুসারে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা ৪১ নম্বর শেডে আরমানের সঙ্গে অসদাচরণ ও শারীরিক লাঞ্ছনা করেন। এ বিষয়ে আরমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে গাড়িতে করে কাস্টমস হাউস ত্যাগ করেন। পরে তার কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়। একই সঙ্গে দরজার সামনের নামফলকও খুলে নেওয়া হয়েছে। কাস্টমস হাউসের অন্য কর্মকর্তারা জানান, যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা ছুটিতে রয়েছেন। তবে তিনি কবে কর্মস্থলে ফিরবেন, সে বিষয়ে তারা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

আরও পড়ুনঃ  আগামী রমজান ও ঈদের তারিখ প্রকাশ

সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমান হোসেন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগের বিস্তারিত বিষয়ে প্রকাশ্যে আর কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হবে। সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকলে পরিবহন ও বিলম্ব মাশুল বাড়ে। এর সঙ্গে কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং পণ্য খালাসে অনিয়মের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং ছুটির পর দ্রæত পণ্য খালাসের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের একজন রাজস্ব কর্মকর্তা বলেন, শুল্ক ফাঁকি এবং একজন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা ব্যবসায়ী কোনো অনিয়মে জড়িত থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক হবে না। কাস্টমসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা ও সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে ১৬৫ জন কর্মরত আছেন। সাম্প্রতিক ঘটনা ঘিরে অসন্তোষে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না বলেও তিনি দাবি করেন।

তাঁর ভাষ্য, অনেকে শেডে গিয়ে পণ্য পরীক্ষার কাজও করছেন না। এতে পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং পণ্যজটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তারা যেন কর্মস্থলে পুনরায় লাঞ্ছনার শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুসারে, স্বাভাবিক কর্মদিবসে এখানে দৈনিক গড়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। সেই হিসাবে আট দিনের বাণিজ্যিক বিরতিতে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় পিছিয়ে যেতে পারে। বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, তদন্ত যেন কোনো পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকে। অনিয়মে যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তের প্রান্তিক জনপদে শিক্ষার প্রদীপ জ্বালাচ্ছে গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মো. রাহাত হোসেন বলেন, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে পণ্য শুল্ক পরিশোধ ছাড়া বের করে নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজার ছুটি শেষে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং বন্দরে পণ্যজট এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তা লাঞ্ছিত করার অভিযোগটিও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

অটোরিকশার ওপর উঠে গেল মালবাহী ট্রাক, নিহত ৫

বন্দরে পূজার ছুটির ‘ধাক্কা’ শুল্ক না দিয়েই ৭ কোটি টাকার পণ্য ছাড়!

Update Time : ০৪:২৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা আটদিনের আমদানি-রপ্তানি বিরতিতে যাচ্ছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল। এর মাঝেই প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের পণ্য শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই বের করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ঘিরেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে বন্দরের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, পণ্য খালাসের নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কাস্টমসের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুসারে, আজ শনিবার ১৭ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। দুই দেশের ছুটির সময়সূচির সমন্বয় না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২৫ অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক বাণিজ্য শুরুর কথা থাকলেও দীর্ঘ বিরতির পর বন্দরে পণ্যজট, পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি এবং খালাসে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের পরিবহন ব্যয়সহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর মধ্যেই ৮ অক্টোবর বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকে সিনথেটিক কাপড়, শাড়ি ও থ্রিপিসসহ উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য শুল্ক পরিশোধ কিংবা বৈধ এন্ট্রি ছাড়াই বের করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ঢাকার সদরঘাট এলাকায় দুটি ট্রাক থেকে এসব পণ্য উদ্ধার হয়। আটক পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য সাত কোটি টাকা। ওই ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও সামনে আসে।

অভিযোগ অনুসারে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা ৪১ নম্বর শেডে আরমানের সঙ্গে অসদাচরণ ও শারীরিক লাঞ্ছনা করেন। এ বিষয়ে আরমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে গাড়িতে করে কাস্টমস হাউস ত্যাগ করেন। পরে তার কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়। একই সঙ্গে দরজার সামনের নামফলকও খুলে নেওয়া হয়েছে। কাস্টমস হাউসের অন্য কর্মকর্তারা জানান, যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা ছুটিতে রয়েছেন। তবে তিনি কবে কর্মস্থলে ফিরবেন, সে বিষয়ে তারা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

আরও পড়ুনঃ  হত্যা মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন স্থগিত

সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমান হোসেন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগের বিস্তারিত বিষয়ে প্রকাশ্যে আর কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হবে। সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকলে পরিবহন ও বিলম্ব মাশুল বাড়ে। এর সঙ্গে কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং পণ্য খালাসে অনিয়মের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং ছুটির পর দ্রæত পণ্য খালাসের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের একজন রাজস্ব কর্মকর্তা বলেন, শুল্ক ফাঁকি এবং একজন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা ব্যবসায়ী কোনো অনিয়মে জড়িত থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক হবে না। কাস্টমসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা ও সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে ১৬৫ জন কর্মরত আছেন। সাম্প্রতিক ঘটনা ঘিরে অসন্তোষে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না বলেও তিনি দাবি করেন।

তাঁর ভাষ্য, অনেকে শেডে গিয়ে পণ্য পরীক্ষার কাজও করছেন না। এতে পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং পণ্যজটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তারা যেন কর্মস্থলে পুনরায় লাঞ্ছনার শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুসারে, স্বাভাবিক কর্মদিবসে এখানে দৈনিক গড়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। সেই হিসাবে আট দিনের বাণিজ্যিক বিরতিতে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় পিছিয়ে যেতে পারে। বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, তদন্ত যেন কোনো পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকে। অনিয়মে যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  র‍্যাব বিলুপ্ত করে অনুমোদন পেলো নতুন বাহিনী এসআরবি

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মো. রাহাত হোসেন বলেন, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে পণ্য শুল্ক পরিশোধ ছাড়া বের করে নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজার ছুটি শেষে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং বন্দরে পণ্যজট এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তা লাঞ্ছিত করার অভিযোগটিও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।