
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভের একটি পর্যটন রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ১৭ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) সকালের এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আগুনে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি তিন তলা বিশিষ্ট রিসোর্ট স্থাপনাটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ড ও উদ্ধার অভিযান
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামের ওই স্থাপনাটিতে আকস্মিক আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ও নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
আগুন লাগার সময় রিসোর্টটিতে বেশ কয়েকজন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। ফায়ার সার্ভিস এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে একটি পরিবারেরই কয়েকজন সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এবং চুয়াডাঙ্গার কয়েকজন বাসিন্দা সহ মোট ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নিহতরা হলেন— ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং ৫ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ। এই ঘটনায় দগ্ধ ও আহত আরও অন্তত ৯ জনকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রিসোর্টের রান্নাঘরের সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই রিসোর্টটির কোনো ফায়ার সেফটি লাইসেন্স ছিল না এবং এ বিষয়ে আগেই তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। ঘটনার পর থেকে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন।
কক্সবাজার প্রতিনিধি 



















