Dhaka ০৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা ৩৩ কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাচ্ছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে নবনিযুক্ত প্রসিকিউটরদের যোগদান এক দফা দাবিতে এবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা আমার নোবেল পাওয়া উচিত, কিন্তু তারা দেবে কি না জানি না: ট্রাম্প বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান রেলস্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চুরি কঠিন শর্তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও চাকরি হয়নি ক্লীন্টনের, নদীভাঙনে হারিয়েছেন স্থায়ী ঠিকানা পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৭ Time View

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুপারিশ করেছে, দেশের কিছু নির্দিষ্ট কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বন্ধ করা হোক। দেশের স্থানীয় টেক্সটাইল মিলগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতার জন্য শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-কে পাঠানো হয়েছে।

দুই দশক ধরে সরকার রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতকে উৎসাহিত করতে সুতা আমদানি সুবিধা দিয়ে আসছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্পীরা কম খরচে কাঁচামাল আনা সম্ভব হয়ে থাকে। তবে দেশীয় মিলগুলো অভিযোগ করছে, এই সুবিধার অপব্যবহারে প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে ভারত থেকে সস্তায় সুতা প্রবেশ করেছে। ফলে দেশীয় কারখানাগুলো ন্যায্য দামে কাঁচামাল বিক্রি করতে পারছে না এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর চাপ পড়ছে।

বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ও ২৯ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে দুই দফা আবেদন জমা দেয়। এরপর বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, যা ৬ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে জমা হয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এনবিআর-কে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে পোশাক ও বস্ত্র খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫ শতাংশ। নিট পোশাক উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হলো ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা, যা বাংলাদেশে মূলত ভারত থেকে আসে। বিটিএমএ জানিয়েছে, দেশে এক কেজি সুতা উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রায় ৩ ডলার, যেখানে ভারত একই মানের সুতা উৎপাদন করে ২.৮৫–২.৯০ ডলারে এবং বাংলাদেশে বিক্রি করে প্রায় ২.৫ ডলারে।

গত দুই অর্থবছরে বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ফলে দেশীয় উৎপাদিত সুতার বিক্রি কমেছে। বর্তমানে স্থানীয় কারখানাগুলো তাদের উৎপাদনক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। আর্থিক চাপের কারণে ইতোমধ্যে ৫০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, এ ধারা চলতে থাকলে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ব্যাংক খাতে সংস্কারসংশোধনের অপেক্ষায় মৌলিক কিছু আইন

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মনে করছে, যদি দেশীয় সুতা কারখানা বন্ধ হয়, তবে নিট পোশাক খাত পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে। এতে শিল্পের প্রতিযোগিতা কমবে, উৎপাদন সময় বাড়বে, মূল্য সংযোজন হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে বন্ড সুবিধা বজায় থাকবে কি না, তা চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবে এনবিআর।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

Update Time : ০২:০৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুপারিশ করেছে, দেশের কিছু নির্দিষ্ট কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বন্ধ করা হোক। দেশের স্থানীয় টেক্সটাইল মিলগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতার জন্য শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-কে পাঠানো হয়েছে।

দুই দশক ধরে সরকার রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতকে উৎসাহিত করতে সুতা আমদানি সুবিধা দিয়ে আসছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্পীরা কম খরচে কাঁচামাল আনা সম্ভব হয়ে থাকে। তবে দেশীয় মিলগুলো অভিযোগ করছে, এই সুবিধার অপব্যবহারে প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে ভারত থেকে সস্তায় সুতা প্রবেশ করেছে। ফলে দেশীয় কারখানাগুলো ন্যায্য দামে কাঁচামাল বিক্রি করতে পারছে না এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর চাপ পড়ছে।

বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ও ২৯ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে দুই দফা আবেদন জমা দেয়। এরপর বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, যা ৬ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে জমা হয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এনবিআর-কে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে পোশাক ও বস্ত্র খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫ শতাংশ। নিট পোশাক উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হলো ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা, যা বাংলাদেশে মূলত ভারত থেকে আসে। বিটিএমএ জানিয়েছে, দেশে এক কেজি সুতা উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রায় ৩ ডলার, যেখানে ভারত একই মানের সুতা উৎপাদন করে ২.৮৫–২.৯০ ডলারে এবং বাংলাদেশে বিক্রি করে প্রায় ২.৫ ডলারে।

গত দুই অর্থবছরে বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ফলে দেশীয় উৎপাদিত সুতার বিক্রি কমেছে। বর্তমানে স্থানীয় কারখানাগুলো তাদের উৎপাদনক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। আর্থিক চাপের কারণে ইতোমধ্যে ৫০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, এ ধারা চলতে থাকলে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল, অভিযুক্তের ৫ মাসের জেল সহ জরিমানা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মনে করছে, যদি দেশীয় সুতা কারখানা বন্ধ হয়, তবে নিট পোশাক খাত পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে। এতে শিল্পের প্রতিযোগিতা কমবে, উৎপাদন সময় বাড়বে, মূল্য সংযোজন হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে বন্ড সুবিধা বজায় থাকবে কি না, তা চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবে এনবিআর।