Dhaka ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনেই উপচে পড়া ভিড়, দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট সিলেটে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিককে গু.লি করে হ ত্যা সিলেটে ডিসকাউন্টের নামে প্রতারণা: ৪ কাপড়ের দোকানকে ৭২ হাজার টাকা জরিমানা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ভূখণ্ড সিলেট: পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সিউক চেয়ারম্যান দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার নাম দেশের জন্য লজ্জার: প্রধানমন্ত্রী সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের দুই সাধারণ সম্পাদককে সম্মাননা প্রদান ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ৫ হাজার টাকা দাবি! ‘নেতাদের ভাগ দিতে হবে’ —ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সুনামগঞ্জে তোলপাড় সৌদি আরবে অনৈতিক কাজের অপরাধে বাংলাদেশি দুই নারী-পুরুষের ফাঁ.সি সিলেটে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে বিএনপির ৭ ‘তদারকি কমিটি’

বিলবোর্ড নিয়ে অস্পষ্টতায় আচরণবিধি মানতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রার্থীরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৬ Time View

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের সময় পরিবেশ সুরক্ষা, শহরের সৌন্দর্য রক্ষা এবং অতিরিক্ত পোস্টার–ব্যানারের কারণে জনভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যেই এই কড়াকড়ি করা হয়েছে। নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেট তৈরি করতে হবে পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে। প্লাস্টিক, পিভিসি, পলিথিন বা অন্য অপচনশীল বস্তু দিয়ে প্রচার সামগ্রী বানানো যাবে না।

এছাড়া প্রচারণার সব উপকরণ সাদা–কালো রঙে তৈরি করতে হবে। রঙিন ছাপা, ডিজিটাল প্রিন্ট বা ঝকঝকে ব্যানার ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, রঙিন ও প্লাস্টিকের ব্যানার শহরের পরিবেশ নষ্ট করে এবং নির্বাচনের পর দীর্ঘদিন পরিষ্কার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নিয়মের মাধ্যমে প্রার্থীদের পরিবেশবান্ধব ও সীমিত আকারে প্রচারণার দিকে আনা হয়েছে।

তবে আচরণবিধিমালায় একটি জায়গায় স্পষ্টতা না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেটি হলো বিলবোর্ড ব্যবহারের বিষয়টি। বিধিমালার ৭ ধারায় পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেটের বিষয়ে পরিষ্কার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিলবোর্ড শব্দটি আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে অনেক প্রার্থী বিলবোর্ড বানাচ্ছেন। তারা বলছেন, যেহেতু বিলবোর্ড নিয়ে স্পষ্ট নিষেধ নেই, তাই কাপড়ের তৈরি সাদা–কালো বিলবোর্ড ব্যবহার করা বৈধ।

বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ প্রার্থী কাপড়ে তৈরি বড় আকারের সাদা–কালো বিলবোর্ড বিভিন্ন সড়ক, ফুটওভার ব্রিজ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে টানিয়েছেন। কেউ কেউ পিভিসি ব্যবহার না করলেও বিলবোর্ডের আকার বড় হওয়ায় তা ব্যানার–ফেস্টুনের মতোই চোখে পড়ে। ফলে আচরণবিধির মূল উদ্দেশ্য—শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা ও প্রচারণা সীমিত করা—পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

সচেতন নাগরিকদের মতে, বিলবোর্ড নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। বিলবোর্ড নিষিদ্ধ কি না, আকার কত হবে, কোথায় লাগানো যাবে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার নিয়ম না থাকলে প্রার্থীরা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে নিয়মের ফাঁক ব্যবহার করবে। এতে একদিকে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, অন্যদিকে নির্বাচনী শৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইসির উচিত আচরণবিধির এই অস্পষ্টতা দ্রুত দূর করা।

আরও পড়ুনঃ  ওসি মুবাশ্বিরের বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ, তদন্তে এসএমপি
Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনেই উপচে পড়া ভিড়, দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট

বিলবোর্ড নিয়ে অস্পষ্টতায় আচরণবিধি মানতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রার্থীরা

Update Time : ১২:১১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের সময় পরিবেশ সুরক্ষা, শহরের সৌন্দর্য রক্ষা এবং অতিরিক্ত পোস্টার–ব্যানারের কারণে জনভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যেই এই কড়াকড়ি করা হয়েছে। নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেট তৈরি করতে হবে পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে। প্লাস্টিক, পিভিসি, পলিথিন বা অন্য অপচনশীল বস্তু দিয়ে প্রচার সামগ্রী বানানো যাবে না।

এছাড়া প্রচারণার সব উপকরণ সাদা–কালো রঙে তৈরি করতে হবে। রঙিন ছাপা, ডিজিটাল প্রিন্ট বা ঝকঝকে ব্যানার ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, রঙিন ও প্লাস্টিকের ব্যানার শহরের পরিবেশ নষ্ট করে এবং নির্বাচনের পর দীর্ঘদিন পরিষ্কার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নিয়মের মাধ্যমে প্রার্থীদের পরিবেশবান্ধব ও সীমিত আকারে প্রচারণার দিকে আনা হয়েছে।

তবে আচরণবিধিমালায় একটি জায়গায় স্পষ্টতা না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেটি হলো বিলবোর্ড ব্যবহারের বিষয়টি। বিধিমালার ৭ ধারায় পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেটের বিষয়ে পরিষ্কার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিলবোর্ড শব্দটি আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে অনেক প্রার্থী বিলবোর্ড বানাচ্ছেন। তারা বলছেন, যেহেতু বিলবোর্ড নিয়ে স্পষ্ট নিষেধ নেই, তাই কাপড়ের তৈরি সাদা–কালো বিলবোর্ড ব্যবহার করা বৈধ।

বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ প্রার্থী কাপড়ে তৈরি বড় আকারের সাদা–কালো বিলবোর্ড বিভিন্ন সড়ক, ফুটওভার ব্রিজ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে টানিয়েছেন। কেউ কেউ পিভিসি ব্যবহার না করলেও বিলবোর্ডের আকার বড় হওয়ায় তা ব্যানার–ফেস্টুনের মতোই চোখে পড়ে। ফলে আচরণবিধির মূল উদ্দেশ্য—শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা ও প্রচারণা সীমিত করা—পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

সচেতন নাগরিকদের মতে, বিলবোর্ড নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। বিলবোর্ড নিষিদ্ধ কি না, আকার কত হবে, কোথায় লাগানো যাবে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার নিয়ম না থাকলে প্রার্থীরা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে নিয়মের ফাঁক ব্যবহার করবে। এতে একদিকে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, অন্যদিকে নির্বাচনী শৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইসির উচিত আচরণবিধির এই অস্পষ্টতা দ্রুত দূর করা।

আরও পড়ুনঃ  মব কালচার, প্রক্রিয়াগত সমস্যায় পুলিশের ভাবমূর্তি ফিরছে না