Dhaka ০৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে কৌশলে টয়লেটে নিয়ে গেলেন শিক্ষক, অতঃপর… সাত মাসে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ১১১ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ১৪ ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য, অবশেষে জামিন পেলেন নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার সুনামগঞ্জে দুই সেতুর কাজ বন্ধ, এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ঠিকাদারের সিলেট শাহী ঈদগাহকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে ৫ কোটি টাকার প্রকল্প—সিসিক প্রশাসক শি শু মুহিন হ ত্যার দায়ে ২ জনের মৃ ত্যুদণ্ড চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে বেদম পেটালেন নেতা ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বার্তা দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতের সমর্থন ছাড়ার ঘোষণা, ভিডিও ভাইরাল মাদকাসক্ত প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল

সাত মাসে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ১১১ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ১৪

ছবি: আরটিভি

 

মুন্সীগঞ্জে গত সাত মাসে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ১১১টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ২৩০ জন আহত হয়েছেন। বেপরোয়া ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতি, চালকের ক্লান্তি ও তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় গাড়ি চালানোকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে রোড শো বের করা হয়। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ কে এম নূর হোসেন নির্ঝর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন পিপিএম, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন এবং মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু।এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নিরাপদ সড়ক চাই-এর মুন্সীগঞ্জ শাখার সভাপতি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কেবল একজন মানুষের প্রাণহানি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও জীবিকা। অনেক ক্ষেত্রে একজন মানুষের আয়ের ওপর পুরো পরিবার নির্ভরশীল থাকে। তাই দুর্ঘটনার কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

 

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং পরিহার এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি চালক, মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারী সবার দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  ১০ বছরের শি শুকে ধ র্ষণ

 

বক্তারা চালকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা, ক্লান্ত বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পথচারীদের ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার, নির্ধারিত বাস বে-তে গাড়ি থামানো এবং নিরাপদ স্থানে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটাননি এমন চারজন পেশাদার গাড়িচালককে পুরস্কৃত করা হয়।

 

বক্তারা আরও বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একক দপ্তরের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে কৌশলে টয়লেটে নিয়ে গেলেন শিক্ষক, অতঃপর…

সাত মাসে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ১১১ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ১৪

Update Time : ০৪:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: আরটিভি

 

মুন্সীগঞ্জে গত সাত মাসে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ১১১টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ২৩০ জন আহত হয়েছেন। বেপরোয়া ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতি, চালকের ক্লান্তি ও তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় গাড়ি চালানোকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে রোড শো বের করা হয়। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ কে এম নূর হোসেন নির্ঝর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন পিপিএম, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন এবং মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু।এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নিরাপদ সড়ক চাই-এর মুন্সীগঞ্জ শাখার সভাপতি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কেবল একজন মানুষের প্রাণহানি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও জীবিকা। অনেক ক্ষেত্রে একজন মানুষের আয়ের ওপর পুরো পরিবার নির্ভরশীল থাকে। তাই দুর্ঘটনার কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

 

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং পরিহার এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি চালক, মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারী সবার দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  ডারউইনের সূর্য ম্যাকাইয়ে ম্লান, ১-১ সমতায় শেষ বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর

 

বক্তারা চালকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা, ক্লান্ত বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পথচারীদের ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার, নির্ধারিত বাস বে-তে গাড়ি থামানো এবং নিরাপদ স্থানে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটাননি এমন চারজন পেশাদার গাড়িচালককে পুরস্কৃত করা হয়।

 

বক্তারা আরও বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একক দপ্তরের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।