Dhaka ০৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সুকেশ বিতর্কের কথা বলতে গিয়ে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি সিলেটে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, সক্রিয় ১৫ গ্রুপ ১৪১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, দুদকের মামলায় সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রীসহ আসামি ২৯ কুপিয়ে তরুণীর হাত বিচ্ছিন্ন করলো প্রেমিক, বাঁচাতে গিয়ে আহত বাবা-মা ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই নারী ইউপি সদস্য ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আমেরিকা, বন্দুকের গুলিতে শেষ সব স্বপ্ন সাংবাদিকদের মারধর করে হুমকি, ‘তোমরা লেখবা, আর আমরা তোমাদের পিটাবো’ ইউরোপ পাঠানোর নামে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের হাতে আটক ইমন সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় হামের সন্দেহে হাসপাতালে ১২৬, মৃত্যু ১ ইজিবাইক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত

ডারউইনের সূর্য ম্যাকাইয়ে ম্লান, ১-১ সমতায় শেষ বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর

  • desk news
  • Update Time : ০৪:২৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৯ Time View

ডারউইনের আকাশে যে বিজয়ের সূর্য উঠেছিল, ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় এসে যেন তার আলো হঠাৎই ম্লান হয়ে গেল। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের যে গল্প বাংলাদেশ শুরু করেছিল, দ্বিতীয় টেস্টে এসে সেই গল্পে জমল হতাশার কালো ছায়া। মাত্র দুই দিনেই শেষ হলো টেস্ট। ইনিংস ও ৫৮ রানের হারে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ।

প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় বাংলাদেশকে দিয়েছিল বড় স্বপ্ন দেখার সাহস। কিন্তু ম্যাকাইয়ে সেই স্বপ্নের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিচেল স্টার্ক। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। প্রথম ওভারের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করেন স্টার্ক। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং।

তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও লিটন দাস—এক এক করে শূন্য রানে ফিরলেন সাজঘরে। মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস তখন যেন ঝড়ের কবলে পড়া নৌকা। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামের ২৫ রানের জুটি দলকে ৬৪ রানে নিয়ে যায়। একাই ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি টানেন স্টার্ক।

তবে ম্যাচের গল্প তখনও পুরোপুরি একপেশে হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়েও আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত স্পেলে কেঁপে ওঠে স্বাগতিকদের ব্যাটিং। প্রথম দিনেই ১৬৫ রানে ৮ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় দিনে ক্যামেরন গ্রিনের ৬৭ রানের প্রতিরোধ ভেঙে ২১০ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ।

সেই ইনিংসেই ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায় লিখেন শরিফুল। মাত্র ১৫ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে নেন ৭ উইকেট। বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা টেস্ট বোলিং ফিগার এটি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও ১৯৯৩ সালের পর কোনো সফরকারী বোলারের সেরা বোলিং নৈপুণ্য হিসেবে জায়গা করে নেয় তাঁর এই পারফরম্যান্স।

কিন্তু পেসারদের সেই গর্জন শেষ পর্যন্ত চাপা পড়ে যায় ব্যাটারদের ব্যর্থতায়। ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নামা বাংলাদেশ আবারও পথ হারায়। শুরুতেই ৫ রানে ২ উইকেট। নাজমুল হোসেন শান্তর ৩১ ও মুশফিকুর রহিমের ২৯ রানের লড়াই কিছুটা আশা জাগালেও তা স্থায়ী হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  তেল না দেয়ায় এয়ারপোর্ট চৌকিদেখী পেট্রোল পাম্পে কর্মীকে ছুরিকাঘাত

টপ ও মিডল অর্ডারের একের পর এক ভুল শট বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেয়। মাত্র ৩৮.৩ ওভারে ৯৫ রানে থেমে যায় দ্বিতীয় ইনিংস। স্টার্ক নেন আরও ৪ উইকেট। কামিন্স ও নাথান লায়ন ভাগ করে নেন বাকি ৬টি। পুরো ম্যাচে স্টার্কের শিকার ১০ উইকেট।

শেষ পর্যন্ত ম্যাকাই টেস্ট জায়গা করে নেয় টেস্ট ইতিহাসের মাত্র দুই দিনে শেষ হওয়া ২৯তম ম্যাচ হিসেবে। অস্ট্রেলিয়া পায় ইনিংস ও ৫৮ রানের জয়। বাংলাদেশ পায় কঠিন এক শিক্ষা।

তবে এই সিরিজের গল্প শুধুই পরাজয়ের নয়। ডারউইনে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় এবং ম্যাকাইয়ে পেসারদের আগুনঝরা বোলিং—দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দেখিয়েছে, সামর্থ্যের ঘাটতি নেই। ঘাটতি বরং ধারাবাহিকতায়, ব্যাটিংয়ের দৃঢ়তায় এবং চাপের মুহূর্তে নিজেদের ধরে রাখার সক্ষমতায়।

ডারউইনের জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের আকাশে যদি হয়ে থাকে এক টুকরো রোদ, ম্যাকাইয়ের দুই দিনের পতন তবে সেই রোদের পাশে জমে থাকা কালো মেঘ। সিরিজ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর পাওয়া ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে থেকে যাবে উজ্জ্বল এক অধ্যায় হয়ে।

আর ম্যাকাই মনে করিয়ে দেবে—বড় দলের বিপক্ষে স্বপ্ন দেখা যতটা সহজ, সেই স্বপ্নকে শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা ততটাই কঠিন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সুকেশ বিতর্কের কথা বলতে গিয়ে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

ডারউইনের সূর্য ম্যাকাইয়ে ম্লান, ১-১ সমতায় শেষ বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর

Update Time : ০৪:২৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ডারউইনের আকাশে যে বিজয়ের সূর্য উঠেছিল, ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় এসে যেন তার আলো হঠাৎই ম্লান হয়ে গেল। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের যে গল্প বাংলাদেশ শুরু করেছিল, দ্বিতীয় টেস্টে এসে সেই গল্পে জমল হতাশার কালো ছায়া। মাত্র দুই দিনেই শেষ হলো টেস্ট। ইনিংস ও ৫৮ রানের হারে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ।

প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় বাংলাদেশকে দিয়েছিল বড় স্বপ্ন দেখার সাহস। কিন্তু ম্যাকাইয়ে সেই স্বপ্নের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিচেল স্টার্ক। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। প্রথম ওভারের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করেন স্টার্ক। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং।

তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও লিটন দাস—এক এক করে শূন্য রানে ফিরলেন সাজঘরে। মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস তখন যেন ঝড়ের কবলে পড়া নৌকা। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামের ২৫ রানের জুটি দলকে ৬৪ রানে নিয়ে যায়। একাই ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি টানেন স্টার্ক।

তবে ম্যাচের গল্প তখনও পুরোপুরি একপেশে হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়েও আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত স্পেলে কেঁপে ওঠে স্বাগতিকদের ব্যাটিং। প্রথম দিনেই ১৬৫ রানে ৮ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় দিনে ক্যামেরন গ্রিনের ৬৭ রানের প্রতিরোধ ভেঙে ২১০ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ।

সেই ইনিংসেই ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায় লিখেন শরিফুল। মাত্র ১৫ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে নেন ৭ উইকেট। বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা টেস্ট বোলিং ফিগার এটি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও ১৯৯৩ সালের পর কোনো সফরকারী বোলারের সেরা বোলিং নৈপুণ্য হিসেবে জায়গা করে নেয় তাঁর এই পারফরম্যান্স।

কিন্তু পেসারদের সেই গর্জন শেষ পর্যন্ত চাপা পড়ে যায় ব্যাটারদের ব্যর্থতায়। ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নামা বাংলাদেশ আবারও পথ হারায়। শুরুতেই ৫ রানে ২ উইকেট। নাজমুল হোসেন শান্তর ৩১ ও মুশফিকুর রহিমের ২৯ রানের লড়াই কিছুটা আশা জাগালেও তা স্থায়ী হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  শাহরুখ খানের বাড়ি থেকে জোড়া সাপ উদ্ধার!

টপ ও মিডল অর্ডারের একের পর এক ভুল শট বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেয়। মাত্র ৩৮.৩ ওভারে ৯৫ রানে থেমে যায় দ্বিতীয় ইনিংস। স্টার্ক নেন আরও ৪ উইকেট। কামিন্স ও নাথান লায়ন ভাগ করে নেন বাকি ৬টি। পুরো ম্যাচে স্টার্কের শিকার ১০ উইকেট।

শেষ পর্যন্ত ম্যাকাই টেস্ট জায়গা করে নেয় টেস্ট ইতিহাসের মাত্র দুই দিনে শেষ হওয়া ২৯তম ম্যাচ হিসেবে। অস্ট্রেলিয়া পায় ইনিংস ও ৫৮ রানের জয়। বাংলাদেশ পায় কঠিন এক শিক্ষা।

তবে এই সিরিজের গল্প শুধুই পরাজয়ের নয়। ডারউইনে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় এবং ম্যাকাইয়ে পেসারদের আগুনঝরা বোলিং—দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দেখিয়েছে, সামর্থ্যের ঘাটতি নেই। ঘাটতি বরং ধারাবাহিকতায়, ব্যাটিংয়ের দৃঢ়তায় এবং চাপের মুহূর্তে নিজেদের ধরে রাখার সক্ষমতায়।

ডারউইনের জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের আকাশে যদি হয়ে থাকে এক টুকরো রোদ, ম্যাকাইয়ের দুই দিনের পতন তবে সেই রোদের পাশে জমে থাকা কালো মেঘ। সিরিজ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর পাওয়া ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে থেকে যাবে উজ্জ্বল এক অধ্যায় হয়ে।

আর ম্যাকাই মনে করিয়ে দেবে—বড় দলের বিপক্ষে স্বপ্ন দেখা যতটা সহজ, সেই স্বপ্নকে শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা ততটাই কঠিন।