Dhaka ০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর… লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন ১৩ বছর পর ধরা পড়লেন ছদ্মবেশে থাকা চঞ্চল সৈকতে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, উদ্ধার ১৫ তুলসীগঙ্গা নদী থেকে বহুমূল্য কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার বিষ হাতে হৃদয়ের বাড়িতে কিশোরী, বলছে ‘বিয়ে করতেই হবে’ ১০ বছর বয়সেই কুরআনের হাফেজ আশ্রাফ তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য ‘ভালোবাসা যত বড় হয়, জীবনটা তত নয়’, দেড় দশক ধরে স্ত্রীর কবর পরিষ্কার করছেন আইনজীবী সিলেটে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের মৃত্যুদন্ড, দুজনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছরের জেল

ডারউইনের সূর্য ম্যাকাইয়ে ম্লান, ১-১ সমতায় শেষ বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর

  • desk news
  • Update Time : ০৪:২৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৫৩ Time View

ডারউইনের আকাশে যে বিজয়ের সূর্য উঠেছিল, ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় এসে যেন তার আলো হঠাৎই ম্লান হয়ে গেল। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের যে গল্প বাংলাদেশ শুরু করেছিল, দ্বিতীয় টেস্টে এসে সেই গল্পে জমল হতাশার কালো ছায়া। মাত্র দুই দিনেই শেষ হলো টেস্ট। ইনিংস ও ৫৮ রানের হারে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ।

প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় বাংলাদেশকে দিয়েছিল বড় স্বপ্ন দেখার সাহস। কিন্তু ম্যাকাইয়ে সেই স্বপ্নের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিচেল স্টার্ক। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। প্রথম ওভারের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করেন স্টার্ক। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং।

তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও লিটন দাস—এক এক করে শূন্য রানে ফিরলেন সাজঘরে। মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস তখন যেন ঝড়ের কবলে পড়া নৌকা। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামের ২৫ রানের জুটি দলকে ৬৪ রানে নিয়ে যায়। একাই ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি টানেন স্টার্ক।

তবে ম্যাচের গল্প তখনও পুরোপুরি একপেশে হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়েও আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত স্পেলে কেঁপে ওঠে স্বাগতিকদের ব্যাটিং। প্রথম দিনেই ১৬৫ রানে ৮ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় দিনে ক্যামেরন গ্রিনের ৬৭ রানের প্রতিরোধ ভেঙে ২১০ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ।

সেই ইনিংসেই ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায় লিখেন শরিফুল। মাত্র ১৫ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে নেন ৭ উইকেট। বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা টেস্ট বোলিং ফিগার এটি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও ১৯৯৩ সালের পর কোনো সফরকারী বোলারের সেরা বোলিং নৈপুণ্য হিসেবে জায়গা করে নেয় তাঁর এই পারফরম্যান্স।

কিন্তু পেসারদের সেই গর্জন শেষ পর্যন্ত চাপা পড়ে যায় ব্যাটারদের ব্যর্থতায়। ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নামা বাংলাদেশ আবারও পথ হারায়। শুরুতেই ৫ রানে ২ উইকেট। নাজমুল হোসেন শান্তর ৩১ ও মুশফিকুর রহিমের ২৯ রানের লড়াই কিছুটা আশা জাগালেও তা স্থায়ী হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে অভিনেতা ইলিয়াস জাবেদ

টপ ও মিডল অর্ডারের একের পর এক ভুল শট বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেয়। মাত্র ৩৮.৩ ওভারে ৯৫ রানে থেমে যায় দ্বিতীয় ইনিংস। স্টার্ক নেন আরও ৪ উইকেট। কামিন্স ও নাথান লায়ন ভাগ করে নেন বাকি ৬টি। পুরো ম্যাচে স্টার্কের শিকার ১০ উইকেট।

শেষ পর্যন্ত ম্যাকাই টেস্ট জায়গা করে নেয় টেস্ট ইতিহাসের মাত্র দুই দিনে শেষ হওয়া ২৯তম ম্যাচ হিসেবে। অস্ট্রেলিয়া পায় ইনিংস ও ৫৮ রানের জয়। বাংলাদেশ পায় কঠিন এক শিক্ষা।

তবে এই সিরিজের গল্প শুধুই পরাজয়ের নয়। ডারউইনে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় এবং ম্যাকাইয়ে পেসারদের আগুনঝরা বোলিং—দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দেখিয়েছে, সামর্থ্যের ঘাটতি নেই। ঘাটতি বরং ধারাবাহিকতায়, ব্যাটিংয়ের দৃঢ়তায় এবং চাপের মুহূর্তে নিজেদের ধরে রাখার সক্ষমতায়।

ডারউইনের জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের আকাশে যদি হয়ে থাকে এক টুকরো রোদ, ম্যাকাইয়ের দুই দিনের পতন তবে সেই রোদের পাশে জমে থাকা কালো মেঘ। সিরিজ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর পাওয়া ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে থেকে যাবে উজ্জ্বল এক অধ্যায় হয়ে।

আর ম্যাকাই মনে করিয়ে দেবে—বড় দলের বিপক্ষে স্বপ্ন দেখা যতটা সহজ, সেই স্বপ্নকে শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা ততটাই কঠিন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর…

ডারউইনের সূর্য ম্যাকাইয়ে ম্লান, ১-১ সমতায় শেষ বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর

Update Time : ০৪:২৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ডারউইনের আকাশে যে বিজয়ের সূর্য উঠেছিল, ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় এসে যেন তার আলো হঠাৎই ম্লান হয়ে গেল। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের যে গল্প বাংলাদেশ শুরু করেছিল, দ্বিতীয় টেস্টে এসে সেই গল্পে জমল হতাশার কালো ছায়া। মাত্র দুই দিনেই শেষ হলো টেস্ট। ইনিংস ও ৫৮ রানের হারে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ।

প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় বাংলাদেশকে দিয়েছিল বড় স্বপ্ন দেখার সাহস। কিন্তু ম্যাকাইয়ে সেই স্বপ্নের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিচেল স্টার্ক। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। প্রথম ওভারের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করেন স্টার্ক। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং।

তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও লিটন দাস—এক এক করে শূন্য রানে ফিরলেন সাজঘরে। মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস তখন যেন ঝড়ের কবলে পড়া নৌকা। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামের ২৫ রানের জুটি দলকে ৬৪ রানে নিয়ে যায়। একাই ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি টানেন স্টার্ক।

তবে ম্যাচের গল্প তখনও পুরোপুরি একপেশে হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়েও আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত স্পেলে কেঁপে ওঠে স্বাগতিকদের ব্যাটিং। প্রথম দিনেই ১৬৫ রানে ৮ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় দিনে ক্যামেরন গ্রিনের ৬৭ রানের প্রতিরোধ ভেঙে ২১০ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ।

সেই ইনিংসেই ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায় লিখেন শরিফুল। মাত্র ১৫ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে নেন ৭ উইকেট। বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা টেস্ট বোলিং ফিগার এটি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও ১৯৯৩ সালের পর কোনো সফরকারী বোলারের সেরা বোলিং নৈপুণ্য হিসেবে জায়গা করে নেয় তাঁর এই পারফরম্যান্স।

কিন্তু পেসারদের সেই গর্জন শেষ পর্যন্ত চাপা পড়ে যায় ব্যাটারদের ব্যর্থতায়। ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নামা বাংলাদেশ আবারও পথ হারায়। শুরুতেই ৫ রানে ২ উইকেট। নাজমুল হোসেন শান্তর ৩১ ও মুশফিকুর রহিমের ২৯ রানের লড়াই কিছুটা আশা জাগালেও তা স্থায়ী হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  ফিফার ভিডিওতে উঠে এল বিশ্বকাপ ফাইনালে রেয়াফারির চাঞ্চল্যকর সংলাপ

টপ ও মিডল অর্ডারের একের পর এক ভুল শট বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেয়। মাত্র ৩৮.৩ ওভারে ৯৫ রানে থেমে যায় দ্বিতীয় ইনিংস। স্টার্ক নেন আরও ৪ উইকেট। কামিন্স ও নাথান লায়ন ভাগ করে নেন বাকি ৬টি। পুরো ম্যাচে স্টার্কের শিকার ১০ উইকেট।

শেষ পর্যন্ত ম্যাকাই টেস্ট জায়গা করে নেয় টেস্ট ইতিহাসের মাত্র দুই দিনে শেষ হওয়া ২৯তম ম্যাচ হিসেবে। অস্ট্রেলিয়া পায় ইনিংস ও ৫৮ রানের জয়। বাংলাদেশ পায় কঠিন এক শিক্ষা।

তবে এই সিরিজের গল্প শুধুই পরাজয়ের নয়। ডারউইনে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় এবং ম্যাকাইয়ে পেসারদের আগুনঝরা বোলিং—দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দেখিয়েছে, সামর্থ্যের ঘাটতি নেই। ঘাটতি বরং ধারাবাহিকতায়, ব্যাটিংয়ের দৃঢ়তায় এবং চাপের মুহূর্তে নিজেদের ধরে রাখার সক্ষমতায়।

ডারউইনের জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের আকাশে যদি হয়ে থাকে এক টুকরো রোদ, ম্যাকাইয়ের দুই দিনের পতন তবে সেই রোদের পাশে জমে থাকা কালো মেঘ। সিরিজ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর পাওয়া ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে থেকে যাবে উজ্জ্বল এক অধ্যায় হয়ে।

আর ম্যাকাই মনে করিয়ে দেবে—বড় দলের বিপক্ষে স্বপ্ন দেখা যতটা সহজ, সেই স্বপ্নকে শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা ততটাই কঠিন।