Dhaka ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর দিল ইরান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধ র্ষ ণের দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন ইসলামি বক্তা মিসবাহের ‘১০ নম্বর স্ত্রী’ হতে চান কনটেন্ট ক্রিয়েটর মীম সিলেটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ আসামি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হলেন আবু আউয়াল সিলেটের মেয়ে রুবাইয়ার  ৭৩ লাখ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার এয়ার হোস্টেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তা, এবার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত

প্রেম নয়, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড়ে চুরি; ধরা পড়ে একে একে তিন খুন!

সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় তিনজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তিনি জবানবন্দি দেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমান জানান, বাবুল নিজে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দির কপি গণমাধ্যমের হাতে না আসায় বিস্তারিত জানা যায়নি।

পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাসায় ঢুকেছিলেন বাবুল। সেখানে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের কাছে ধরা পড়ার পর নিজের অপরাধ আড়াল করতে একে একে তাহমিনা, গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, তিনজনকে হত্যার পর বাবুল বাথরুমে গিয়ে শরীর, পোশাক ও ছুরিতে থাকা রক্ত পরিষ্কার করেন। পরে বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব তল্লাশি করে প্রায় ১৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। ওই টাকা তিনি বাসা ভাড়ার জন্য ব্যবহার করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সকাল ৯টা ২৬ মিনিটের পর বাবুলকে বাসায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় মূল গেটের ক্যামেরায় বের হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েনি। তবে পাশের ৮৩ নম্বর বাসার আইপিএস-সংযুক্ত ক্যামেরায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর বাবুলকে টিভি গেটের গলি দিয়ে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায়।

পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর হাতে বারবার তাকানোর দৃশ্য ফুটেজে ধরা পড়ে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর হাত ও আঙুলে আঘাতের চিহ্ন এবং ব্যান্ডেজ ছিল। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি কোথায় ফেলেছেন বলে বাবুল জানালেও এখনো সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে গ্রেপ্তারের পর বাবুল পুলিশকে হত্যাকাণ্ডের ভিন্ন একটি কারণের কথা বলেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ঘটনার দিন শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে ওই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পুলিশও প্রেমের সম্পর্কের দাবি থেকে সরে এসে বাবুলের সঙ্গে তাহমিনার পরিচিতির কথা জানায়।

আরও পড়ুনঃ  ফের নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকে ডিম নিক্ষেপ

এদিকে নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে সিলেট বারের আইনজীবী সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামতসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবুলকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। এখন আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি যাচাই-বাছাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও অন্য কোনো মোটিভ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন

প্রেম নয়, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড়ে চুরি; ধরা পড়ে একে একে তিন খুন!

Update Time : ১১:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় তিনজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তিনি জবানবন্দি দেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমান জানান, বাবুল নিজে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দির কপি গণমাধ্যমের হাতে না আসায় বিস্তারিত জানা যায়নি।

পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাসায় ঢুকেছিলেন বাবুল। সেখানে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের কাছে ধরা পড়ার পর নিজের অপরাধ আড়াল করতে একে একে তাহমিনা, গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, তিনজনকে হত্যার পর বাবুল বাথরুমে গিয়ে শরীর, পোশাক ও ছুরিতে থাকা রক্ত পরিষ্কার করেন। পরে বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব তল্লাশি করে প্রায় ১৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। ওই টাকা তিনি বাসা ভাড়ার জন্য ব্যবহার করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সকাল ৯টা ২৬ মিনিটের পর বাবুলকে বাসায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় মূল গেটের ক্যামেরায় বের হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েনি। তবে পাশের ৮৩ নম্বর বাসার আইপিএস-সংযুক্ত ক্যামেরায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর বাবুলকে টিভি গেটের গলি দিয়ে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায়।

পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর হাতে বারবার তাকানোর দৃশ্য ফুটেজে ধরা পড়ে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর হাত ও আঙুলে আঘাতের চিহ্ন এবং ব্যান্ডেজ ছিল। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি কোথায় ফেলেছেন বলে বাবুল জানালেও এখনো সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে গ্রেপ্তারের পর বাবুল পুলিশকে হত্যাকাণ্ডের ভিন্ন একটি কারণের কথা বলেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ঘটনার দিন শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে ওই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পুলিশও প্রেমের সম্পর্কের দাবি থেকে সরে এসে বাবুলের সঙ্গে তাহমিনার পরিচিতির কথা জানায়।

আরও পড়ুনঃ  চার দূতাবাসে হামলার হুমকি, চক্রান্ত দেখছে ডিবি

এদিকে নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এতে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে সিলেট বারের আইনজীবী সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামতসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবুলকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। এখন আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি যাচাই-বাছাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও অন্য কোনো মোটিভ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হবে।