Dhaka ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর দিল ইরান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধ র্ষ ণের দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন ইসলামি বক্তা মিসবাহের ‘১০ নম্বর স্ত্রী’ হতে চান কনটেন্ট ক্রিয়েটর মীম সিলেটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ আসামি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হলেন আবু আউয়াল সিলেটের মেয়ে রুবাইয়ার  ৭৩ লাখ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার এয়ার হোস্টেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তা, এবার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত

এসএসসিতে শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১২

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেশের **৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি**। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থীই ফেল করেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা গেছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে **৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ**। এর মধ্যে মোট **১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে**। বিপরীতে অকৃতকার্য হয়েছে **৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন**।

ফলাফলে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারাদেশে গড় পাসের হার ছিল **৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ**। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে **৬ দশমিক ২০ শতাংশ পয়েন্ট**।

এবার সারাদেশে মোট **১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫** অর্জন করেছে। তবে একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদানের মান, শিক্ষকদের কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

শিক্ষাবিদদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল শুধু পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে না। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ, অভিভাবকদের সহযোগিতা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং শিক্ষার পরিবেশ—সবকিছুর ওপর ফলাফল নির্ভরশীল।

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি উঠেছে।

এদিকে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ ভালো ফল করে আনন্দিত হলেও অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় হতাশ হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ১১ শিক্ষক, ১১ পরীক্ষার্থী—পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নামও জানেন না প্রধান শিক্ষক

ফল প্রকাশের পর শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ফলাফল জানতে পারছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্যও নির্ধারিত সময়ে আবেদন করার সুযোগ পাবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন

এসএসসিতে শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১২

Update Time : ০১:৪০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেশের **৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি**। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থীই ফেল করেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা গেছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে **৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ**। এর মধ্যে মোট **১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে**। বিপরীতে অকৃতকার্য হয়েছে **৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন**।

ফলাফলে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারাদেশে গড় পাসের হার ছিল **৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ**। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে **৬ দশমিক ২০ শতাংশ পয়েন্ট**।

এবার সারাদেশে মোট **১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫** অর্জন করেছে। তবে একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদানের মান, শিক্ষকদের কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

শিক্ষাবিদদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল শুধু পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে না। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ, অভিভাবকদের সহযোগিতা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং শিক্ষার পরিবেশ—সবকিছুর ওপর ফলাফল নির্ভরশীল।

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি উঠেছে।

এদিকে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ ভালো ফল করে আনন্দিত হলেও অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় হতাশ হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ১১ শিক্ষক, ১১ পরীক্ষার্থী—পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নামও জানেন না প্রধান শিক্ষক

ফল প্রকাশের পর শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ফলাফল জানতে পারছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্যও নির্ধারিত সময়ে আবেদন করার সুযোগ পাবে।