Dhaka ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর দিল ইরান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধ র্ষ ণের দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন ইসলামি বক্তা মিসবাহের ‘১০ নম্বর স্ত্রী’ হতে চান কনটেন্ট ক্রিয়েটর মীম সিলেটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ আসামি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হলেন আবু আউয়াল সিলেটের মেয়ে রুবাইয়ার  ৭৩ লাখ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার এয়ার হোস্টেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তা, এবার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত

১৭ বছর পর পড়াশোনায় ফিরে মা-ছেলের জিপিএ-৫

অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিবারের সহযোগিতা আর কঠোর পরিশ্রমের কাছে হার মেনেছে ১৭ বছরের দীর্ঘ বিরতি। সংসারের দায়িত্ব সামলে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন রাজশাহীর গৃহিণী সাদিয়া বেগম। একই বছরে তাঁর ছেলে তানভীর আহমেদও অর্জন করেছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। মা-ছেলের এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছে পুরো পরিবার।

সাদিয়া বেগম রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানার বসিলা এলাকার বাসিন্দা। বিয়ের পর সংসারের নানা দায়িত্বে তাঁর শিক্ষাজীবনে দীর্ঘ বিরতি পড়ে। তবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা কখনো হারাননি তিনি।

প্রায় দুই বছর আগে পরিবারের সম্মতি নিয়ে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন সাদিয়া। সংসারের কাজ সামলানোর পাশাপাশি বড় ছেলে তানভীর আহমেদের সঙ্গে পড়াশোনার প্রস্তুতি নিতে থাকেন তিনি। মা ও ছেলে একইসঙ্গে নিজেদের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে থাকেন।

চলতি বছর রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেন সাদিয়া বেগম। পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

অন্যদিকে, তাঁর ছেলে তানভীর আহমেদ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অর্জন করে গোল্ডেন জিপিএ-৫।

নিজের ও ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সাদিয়া বেগম বলেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে এবং পরিবার পাশে দাঁড়ালে জীবনের যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। তাঁর এই সাফল্য শুধু নিজের জন্য নয়, দীর্ঘদিন পড়াশোনা থেকে দূরে থাকা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার।

ভবিষ্যতে পড়াশোনার এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে চান সাদিয়া। পাশাপাশি ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর রয়েছে নানা স্বপ্ন।

মা-ছেলের এমন ব্যতিক্রমী সাফল্যে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তাঁদের এই অর্জন আবারও প্রমাণ করেছে—শিক্ষাজীবনে বিরতি এলেও স্বপ্ন থেমে থাকে না; দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বয়সেই নতুন করে পথচলা শুরু করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন অধ্যাপক মো. শহীদুল আলম
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন

১৭ বছর পর পড়াশোনায় ফিরে মা-ছেলের জিপিএ-৫

Update Time : ০১:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিবারের সহযোগিতা আর কঠোর পরিশ্রমের কাছে হার মেনেছে ১৭ বছরের দীর্ঘ বিরতি। সংসারের দায়িত্ব সামলে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন রাজশাহীর গৃহিণী সাদিয়া বেগম। একই বছরে তাঁর ছেলে তানভীর আহমেদও অর্জন করেছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। মা-ছেলের এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছে পুরো পরিবার।

সাদিয়া বেগম রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানার বসিলা এলাকার বাসিন্দা। বিয়ের পর সংসারের নানা দায়িত্বে তাঁর শিক্ষাজীবনে দীর্ঘ বিরতি পড়ে। তবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা কখনো হারাননি তিনি।

প্রায় দুই বছর আগে পরিবারের সম্মতি নিয়ে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন সাদিয়া। সংসারের কাজ সামলানোর পাশাপাশি বড় ছেলে তানভীর আহমেদের সঙ্গে পড়াশোনার প্রস্তুতি নিতে থাকেন তিনি। মা ও ছেলে একইসঙ্গে নিজেদের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে থাকেন।

চলতি বছর রাজপাড়া আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেন সাদিয়া বেগম। পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

অন্যদিকে, তাঁর ছেলে তানভীর আহমেদ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অর্জন করে গোল্ডেন জিপিএ-৫।

নিজের ও ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সাদিয়া বেগম বলেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে এবং পরিবার পাশে দাঁড়ালে জীবনের যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। তাঁর এই সাফল্য শুধু নিজের জন্য নয়, দীর্ঘদিন পড়াশোনা থেকে দূরে থাকা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার।

ভবিষ্যতে পড়াশোনার এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে চান সাদিয়া। পাশাপাশি ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর রয়েছে নানা স্বপ্ন।

মা-ছেলের এমন ব্যতিক্রমী সাফল্যে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তাঁদের এই অর্জন আবারও প্রমাণ করেছে—শিক্ষাজীবনে বিরতি এলেও স্বপ্ন থেমে থাকে না; দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বয়সেই নতুন করে পথচলা শুরু করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  সিলেট চেম্বার নির্বাচন,ঘোষণা হলো তফসিল